ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের পর এবার স্পেনের লক্ষ্য বিশ্বজয়। ২০২৪ সালের ইউরো জয়ী স্প্যানিশ ডিফেন্ডার অ্যালেক্স গ্রিমাল্ডো বিশ্বাস করেন, ইউরোর পর বিশ্বকাপ জিতে স্পেন তাদের অতীত `সোনালি প্রজন্মের' ঐতিহাসিক কীর্তির পুনরাবৃত্তি করতে পারবে। সংবাদমাধ্যম এএফপি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বায়ার লেভারকুসেনের এই লেফট-ব্যাক দলের এই আত্মবিশ্বাসের কথা জানান। বর্তমান স্পেন দলে অভিজ্ঞদের পাশাপাশি রয়েছে লামিন ইয়ামালের মতো একঝাঁক তরুণ ও প্রতিভাবান ফুটবলার। গ্রিমাল্ডো বলেন, ‘আমি আমাদেরকেই ফেভারিট হিসেবে দেখছি। পুরো দল খুবই আত্মবিশ্বাসী এবং অনুপ্রাণিত। ভালো কিছু করার জন্য আমরা মরিয়া, কারণ আমাদের সেই সামর্থ্য রয়েছে। তবে আমাদের প্রতিদিনের খেলায় মনোযোগ দিতে হবে।’
ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মতো পরাশক্তিদের হারিয়ে ২০২৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্পেন। সেই জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা গ্রিমাল্ডো এবার নিজের প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে নামার আগে দারুণ আশাবাদী।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০১০ সালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই ঐতিহাসিক গোলের পর থেকে বিশ্বকাপে স্পেনের পথচলা মোটেও সুখকর ছিল না। ২০০৮ ও ২০১২ সালের ইউরো এবং ২০১০ সালের বিশ্বকাপ জিতে ফুটবল বিশ্বে রাজত্ব করেছিল স্পেনের তৎকালীন সোনালি প্রজন্ম। তবে এরপরই শুরু হয় ছন্দপতন। ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় ‘লা রোজা’রা। এমনকি রাশিয়া (২০১৮) ও কাতার (২০২২)—গত দুটি বিশ্বকাপেই তারা শেষ ষোলোর (রাউন্ড অব সিক্সটিন) বাধা পার হতে ব্যর্থ হয়েছে।
তবে অতীত ইতিহাস নিয়ে একদমই ভাবছেন না গ্রিমাল্ডো। তার মতে, পরিসংখ্যান এখন অতীত। বর্তমানে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা রয়েছেন স্বপ্নের ফর্মে। ২০২৩ সালের মার্চ মাস থেকে টানা ৩১ ম্যাচে অপরাজিত থাকার এক দুর্দান্ত রেকর্ড নিয়ে বিশ্বকাপে পা রাখছে স্পেন দল।
এবারের বিশ্বকাপে স্পেন খেলছে গ্রুপ ‘এইচ’-এ। যেখানে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে ও এশিয়ান পরাশক্তি সৌদি আরব ছাড়াও তাদের সঙ্গী টুর্নামেন্টের নবাগত দল কেপ ভার্দে।
কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই স্পেনের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে। প্রথম ম্যাচ প্রসঙ্গে গ্রিমাল্ডো যোগ করেন, ‘কেপ ভার্দের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে যথাসম্ভব ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে আমাদের মাঠে নামতে হবে।’
টানা ৩১ ম্যাচ অপরাজিত থাকার আত্মবিশ্বাস এবং তরুণ ও অভিজ্ঞদের দুর্দান্ত সংমিশ্রণে স্পেন এবার বিশ্বমঞ্চে তাদের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করতে পারে কিনা, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।