বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে ১-০ গোলে হারের পর প্যারাগুয়ের বিদায়ের চেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে তাদের খেলার ধরন। শারীরিক সংঘর্ষ, ইচ্ছাকৃত ফাউল, সময় নষ্ট এবং প্রতিপক্ষকে উসকে দেওয়ার কৌশল—সব মিলিয়ে প্যারাগুয়ের পারফরম্যান্সকে ‘ডার্ক আর্টস’ বা ফুটবলের অন্ধকার দিকের উদাহরণ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যাচজুড়ে ফ্রান্সের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে ছিলেন প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের প্রধান লক্ষ্য। আন্দ্রেস কুবাসের বিপজ্জনক ট্যাকল, হুয়ান হোসে কাসেরেসের লাথি, দায়ো উপামেকানোর পেটে কনুইয়ের আঘাত, জার্সি টানা—একাধিক ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ম্যাচ। তবে বিস্ময়করভাবে, পুরো ম্যাচে প্যারাগুয়ের কোনো খেলোয়াড় হলুদ কার্ড দেখেননি।
ম্যাচের একমাত্র গোল আসে ৭০ মিনিটে। ভিএআরের সহায়তায় পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করেন এমবাপ্পে। পেনাল্টি নেওয়ার আগেও নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি করে প্যারাগুয়ে। খেলোয়াড়রা রেফারিকে ঘিরে প্রতিবাদ জানান, এমনকি একজন খেলোয়াড় পেনাল্টি স্পট নষ্ট করার চেষ্টাও করেন। তবুও গোল করতে ভুল করেননি ফরাসি অধিনায়ক।
খেলা শেষে বিবিসির বিশ্লেষক ও সাবেক ফুটবলাররা প্যারাগুয়ের আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন। সাবেক ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জো হার্ট বলেন, প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়রা একেবারেই লজ্জাজনক আচরণ করেছে। আর সাবেক ডিফেন্ডার মিকা রিচার্ডসের মতে, এত ভালো রক্ষণাত্মক খেলেও এসব নাটকের কোনো প্রয়োজন ছিল না।
সাবেক জার্মান আন্তর্জাতিক থমাস হিটসলস্পার্গ আরও কঠোর মন্তব্য করে বলেন, এই ম্যাচের পর নিরপেক্ষ দর্শকদের কাছে প্যারাগুয়ের প্রতি সম্মান কমে গেছে।
তবে প্রতিপক্ষের কৌশলে বিচলিত হয়নি ফ্রান্স। ম্যাচ শেষে এমবাপ্পে বলেন, “ওরা ভেবেছিল আমরা ভদ্রভাবে খেলব। কিন্তু প্রয়োজন হলে আমরাও কঠিন ফুটবল খেলতে জানি।”
সব বিতর্ক ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। কিন্তু ম্যাচটি বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত ম্যাচ হয়ে থাকবে মূলত প্যারাগুয়ের বিতর্কিত ফুটবলের জন্য।