মিসরের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই ইরানের খেলোয়াড়দের মুখে ছিল হতাশার ছাপ। ইনজুরি টাইমে শোজা খলিলজাদেহর জয়সূচক গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পরই সাইদ এজাতোল্লাহর হেড লেগে ফিরে আসে ক্রসবারে। জয় আর ইতিহাস—দুটোই যেন হাতছানি দিয়ে ফিরে গেল। মুঠো থেকে বেরিয়ে গেল নিশ্চিত জয়! এই ম্যাচ জিতলেই রাউন্ড অব থার্টি টুতে পৌঁছে যেত ইরান। এখন সেই সৌভাগ্য অর্জনের জন্য তাদের অন্য গ্রুপের বাকিদের খেলার ফলাফলের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
তবে ম্যাচ শেষে ফলাফলের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে ইরানের প্রধান কোচ আমির ঘালেনোয়েইর বক্তব্য। সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরাসরি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর উদ্দেশে বলেন, ‘আমি ফিফার কাছে একটি অনুরোধ করতে চাই। ভবিষ্যতে যেন কোনো আয়োজক দেশ কোনো দলের সঙ্গে এমন আচরণ করতে না পারে, সেটি আগে নিশ্চিত করতে হবে। ইনফান্তিনো আমাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু আয়োজক দেশ আমাদের সঙ্গে যা করেছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
ঘালেনোয়েইর অভিযোগের পেছনে রয়েছে বিশ্বকাপজুড়ে ইরানের ভোগান্তির দীর্ঘ তালিকা। দলের ১১ জন সিনিয়র কর্মকর্তা মার্কিন ভিসা না পাওয়ায় লজিস্টিক সহায়তা ছাড়াই টুর্নামেন্ট খেলতে হচ্ছে দলটিকে। অধিনায়ক মেহদি তারেমিও ক্ষোভ লুকাননি। তার প্রশ্ন, ‘গ্রুপ পর্ব শেষ হয়ে যাচ্ছে, অথচ আমাদের লজিস্টিক স্টাফ এখনো ভিসা পাননি। এমন পরিস্থিতিতে একটি জাতীয় দল কীভাবে স্বাভাবিক প্রস্তুতি নেবে?’
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ভ্রমণ-সংক্রান্ত জটিলতা। প্রতিটি ম্যাচের মাত্র দুই দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি, আবার ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই মেক্সিকোর তিহুয়ানায় ফিরে যেতে বাধ্য হওয়ায় খেলোয়াড়দের বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে দাবি ইরানের।
সব প্রতিকূলতার মাঝেও ঘালেনোয়েইর কণ্ঠে ছিল গর্বের সুর। ‘এই তরুণ দল যা করেছে, তা ইতিহাসে লেখা থাকবে। এত বাধা, এত অনিশ্চয়তার মধ্যেও তারা মাথা নত করেনি। ফল যা-ই হোক, এ লড়াই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।’
স্বপ্ন এখনো বেঁচে আছে। আর সেই স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার বার্তাই যেন দিয়ে গেল ইরান।