বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নেওয়া কেপ ভার্দে ফিফা র্যাঙ্কিংয়েও শীর্ষ সারিতে নয়। তবু বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১১৩ মিনিট পর্যন্ত আটকে রেখে প্রায় টাইব্রেকারের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল কেপ ভার্দে। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ ব্যবধানে হারলেও মাঠ ছাড়ার সময় মাথা নত করেননি গোলকিপার ভোজিনহা। বরং তার বিশ্বাস, খেলার ধরন বিবেচনায় বিজয়ীর মতোই লড়েছে তার দল।
মায়ামি গার্ডেনসের হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে শুরুতে লিওনেল মেসির গোলে পিছিয়ে পড়ে কেপ ভার্দে। দ্বিতীয়ার্ধে ডেরয় দুয়ার্তের গোলে সমতা ফেরানোর পর নির্ধারিত সময় শেষ হয় ১-১ ব্যবধানে। অতিরিক্ত সময়ে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ আর্জেন্টিনাকে আবার এগিয়ে দিলেও সিডনি লোপেস কাবরালের অসাধারণ এক গোল ম্যাচে নতুন নাটক যোগ করে। তবে ১১১তম মিনিটে মেসির কর্নার থেকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর হেড দিনেই বোর্হেসের গায়ে লেগে জালে জড়ালে সেখানেই শেষ হয়ে যায় কেপ ভার্দের রূপকথা।
ফলাফল হতাশার হলেও নিজের দলের লড়াইয়ে গর্বিত ভোজিনিয়া। ম্যাচ শেষে ফিফাকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, ম্যাচটি জেতার জন্য আমরা যথেষ্ট ভালো খেলেছিলাম। দুর্ভাগ্যবশত, ফুটবল এমনই। আর্জেন্টিনা সেট-পিস থেকে তৃতীয় গোলটি করেছে, কিন্তু আমরা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে সমানতালে লড়েছি। আমার কাছে মনে হয়েছে, আমরা বিজয়ী দলের মতোই খেলেছি।’
পুরো ম্যাচে একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগকে ভোগান ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। বিশেষ করে লিওনেল মেসির একাধিক ফ্রি-কিক ও নিশ্চিত গোলের সুযোগ ঠেকিয়ে তিনি কেপ ভার্দেকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। ম্যাচে তার মোট সেভ ছিল আটটি। চার ম্যাচ মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপে তার সেভের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮।
ভোজিনিয়া জানান, প্রতিপক্ষের নাম নয়, নিজেদের খেলাতেই বিশ্বাস রেখেই মাঠে নেমেছিলেন তারা। তার ভাষ্য, ‘মেসি এবং আর্জেন্টিনার প্রতিটি খেলোয়াড়ের প্রতি আমাদের অগাধ শ্রদ্ধা রয়েছে। কিন্তু মাঠে নামার পর প্রতিপক্ষ কতটা শক্তিশালী, সেটা ভেবে নয়; আমাদের মনোযোগ থাকে নিজেদের খেলা এবং নিজেদের সামর্থ্যের ওপর।’
গ্রুপ পর্বেই স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের বিপক্ষে চমকে দেওয়া পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছিল কেপ ভার্দে। ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার কীর্তিও গড়ে তারা। সেই যাত্রা শেষ হলেও বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে চোখে চোখ রেখে লড়াই করে কেপ ভার্দে বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা কেবল অংশ নিতে নয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেই বিশ্বমঞ্চে এসেছিল।