২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে মাঠের বাইরে এখন চলছে তুমুল বিশ্লেষণ। ফুটবল পণ্ডিত ও বিভিন্ন জরিপের শীর্ষ ফেভারিটের তালিকায় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স কিংবা স্পেনের নাম জোরালোভাবে উচ্চারিত হলেও, কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তবে এই ‘ফেভারিট’ তকমা নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবছেন না সেলেসাওদের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার। বরং মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের প্রমাণ করতেই বেশি আগ্রহী এই তারকা।
বৃহস্পতিবার নিউজার্সিতে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রস্তুতি ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন ব্রাজিলের এই বিশ্বস্ত গোলবারে প্রহরী।
ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনার মতো দলগুলো যখন শিরোপার দৌড়ে বেশি প্রস্তুত বলে বিবেচিত হচ্ছে, তখন ব্রাজিলের পিছিয়ে থাকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ৩৩ বছর বয়সী অ্যালিসন বেশ পরিপক্ব জবাব দেন। তিনি বলেন, ‘ফেভারিট হিসেবে বিবেচিত হওয়া কারও জন্যই কোনো নিশ্চয়তা এনে দেয় না। উল্টো এটি দলের ওপর এক ধরণের বাড়তি মানসিক চাপ তৈরি করে। আসল বিষয় হলো, প্রথম ম্যাচের দিন রেফারি বাঁশি বাজানোর সময় আপনি মানসিকভাবে কোন অবস্থায় আছেন। আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।’
সাম্প্রতিক সময়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব লিভারপুলের হয়ে বারবার চোটের সমস্যায় ভুগলেও, অ্যালিসন নিশ্চিত করেছেন যে তিনি এখন শতভাগ ফিট এবং মাঠে নামার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন। ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে তিন বা তার বেশি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া চার গোলরক্ষকের এলিট ক্লাবে যুক্ত হতে যাচ্ছেন অ্যালিসন। এটি ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপ আসর হলেও ব্যক্তিগত রেকর্ডের চেয়ে দলের সাফল্যই তার কাছে বড়। অ্যালিসন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সর্বোচ্চ আসর খেলার রেকর্ডের চেয়ে তিনি ব্রাজিলের হয়ে আরেকটি বিশ্বকাপজয়ী (চ্যাম্পিয়ন) দলের সদস্য হিসেবে ইতিহাস গড়তে চান।
বাছাইপর্বে ব্রাজিলের পথচলা সহজ ছিল না। আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডর, কলম্বিয়া ও উরুগুয়ের পেছনে থেকে পঞ্চম স্থানে শেষ করে মূল পর্বের টিকিট পায় তারা। তবে শেষ দুই ম্যাচের আগে ইতালিয়ান হাইপ্রোফাইল কোচ কার্লো আনচেলত্তির আগমন দলের ভেতরের চিত্র বদলে দিয়েছে। প্রায় এক বছর ধরে দলের সাথে থাকা আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিল মিশ্র ফলাফল পেলেও তার অভিজ্ঞতা দলের জন্য টনিক হিসেবে কাজ করছে। অ্যালিসন বলেন, ‘গত বাছাইপর্বের চক্রটা আমাদের জন্য খুব কঠিন ছিল। কিন্তু আনচেলত্তি আসার পর সবকিছু ইতিবাচক হতে শুরু করেছে। ড্রেসিংরুমে উনার উপস্থিতি খুবই শক্তিশালী এবং তিনি আমাদের শান্ত পরিবেশে কাজ করার সুযোগ করে দেন।’
২৩তম এই বিশ্বমঞ্চে ৬৭ বছর বয়সী কোচ আনচেলত্তি ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে নিরেট করার দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছেন। অতীতে কিছু গোল এড়ানো সম্ভব ছিল উল্লেখ করে অ্যালিসন বলেন, "বিশ্বকাপ খুব ছোট পরিসরের টুর্নামেন্ট, এখানে ভুলের সুযোগ নেই। আমরা রক্ষণ নিয়ে কাজ করছি। আর আক্রমণভাগে আমাদের যে মান রয়েছে, তাতে গোল করার সুযোগ আমরা সবসময়ই পাব।"
রোববার ভোর ৪টায় নিউজার্সির ঐতিহ্যবাহী মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে হেক্সা মিশনের যাত্রা শুরু করবে সেলেসাওরা। দীর্ঘ ২৪ বছরের বিশ্বকাপ খরা কাটাতে আনচেলত্তির ট্যাকটিক্স আর অ্যালিসনের বিশ্বস্ত হাত ব্রাজিলকে কতদূর নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।