বিশ্বকাপের স্বপ্নটা শেষ পর্যন্ত আর পূরণ হলো না। স্পেনের কাছে হেরে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিয়েছে পর্তুগাল, আর সেই সঙ্গে বিশ্বকাপ অধ্যায়েরও ইতি টানলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তবে বিশ্বকাপ জিততে না পারার আক্ষেপে ভুগতে রাজি নন পর্তুগিজ মহাতারকা। তার কাছে ২০১৬ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ই বিশ্বকাপের সমান মর্যাদার।
ডালাস স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নেয় পর্তুগাল। ম্যাচে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেননি ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। প্রথমার্ধে গোলরক্ষক উনাই সিমনের দিকে নেওয়া একটি শট ছাড়া উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেননি তিনি। দ্বিতীয়ার্ধের স্টপেজ টাইমে মিকেল মেরিনোর গোলে নিশ্চিত হয় স্পেনের জয়, শেষ হয়ে যায় রোনালদোর বিশ্বকাপ যাত্রাও।
ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে রোনালদো বলেন, “পর্তুগালের হয়ে আমার সবচেয়ে বড় অর্জন ২০১৬ সালের ইউরো জেতা। সেই ট্রফিটাই আমার কাছে বিশ্বকাপের মতোই মূল্যবান।”
দীর্ঘ প্রায় ২৩ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে পর্তুগালকে তিনটি বড় শিরোপা উপহার দিয়েছেন রোনালদো—২০১৬ সালের ইউরো, ২০১৯ সালের উয়েফা নেশনস লিগ এবং ২০২৫ সালের উয়েফা নেশনস লিগ। তার দাবি, এসব অর্জনই দেশের ফুটবল ইতিহাস বদলে দিয়েছে।
তিনি বলেন, “আগামীকাল আমি ফুরফুরে হয়ে ঘুম থেকে উঠব। কারণ দেশের জন্য নিজের সর্বস্ব দিয়েছি। আমার আগে পর্তুগাল কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপা জেতেনি, আর আমি দেশের হয়ে তিনটি ট্রফি জিতেছি।”
বিশ্বকাপে অবশ্য রোনালদোর সর্বোচ্চ সাফল্য ২০০৬ সালের সেমিফাইনাল। এরপর ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬—কোনো আসরেই আর শেষ চারে উঠতে পারেনি পর্তুগাল। ফলে বিশ্বকাপ ট্রফি ছাড়াই শেষ হলো ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল এই তারকার আন্তর্জাতিক বিশ্বকাপ অধ্যায়।
তবে এটি তার জাতীয় দলের শেষ ম্যাচ কি না—এ প্রশ্নে সরাসরি উত্তর দেননি রোনালদো। তার সংক্ষিপ্ত জবাব, “আমি আবেগের বশবর্তী হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিই না। আমি খেলব কি না, সেটা এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়।”