বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মুখোমুখি হচ্ছে দুই ইউরোপীয় শক্তি। একদিকে বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন, অন্যদিকে ৭২ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে ফেরা অস্ট্রিয়া। শেষ ষোলোর টিকিটের লড়াইয়ে আজ রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের সোফাই স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুদল। এই ম্যাচের জয়ী দল কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে পর্তুগাল অথবা ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে।
লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেন গ্রুপ ‘এইচ’-এ অপরাজিত থেকে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে। প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ের পর টানা দুই জয় তুলে নেয় তারা। শেষ ম্যাচে অ্যালেক্স বায়েনার একমাত্র গোলে উরুগুয়েকে হারিয়ে সাত পয়েন্ট নিয়ে নকআউটে ওঠে স্পেন।
স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে তাদের রক্ষণভাগ। তিন ম্যাচে এখনো কোনো গোল হজম করেনি তারা। শুধু তা-ই নয়, চলতি বিশ্বকাপে প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের কোনো শটই লক্ষ্যে রাখতে দেয়নি ‘লা রোজা’রা। সবশেষ পাঁচটি বিশ্বকাপ ম্যাচেও কোনো প্রতিপক্ষ ছয়ের বেশি শট নিতে পারেনি তাদের বিপক্ষে। ২০২২ সালের আর্জেন্টিনার পর ১৯৬৬ সালের পর এই কীর্তি গড়া মাত্র দ্বিতীয় দল স্পেন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টাইব্রেকার বাদে স্পেনের অপরাজিত থাকার ধারাও পৌঁছেছে ৩৪ ম্যাচে। ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে গড়া নিজেদের ৩৫ ম্যাচের রেকর্ড স্পর্শ করতে আর মাত্র এক ম্যাচ দূরে তারা। আন্তর্জাতিক ফুটবলে পুরুষদের সর্বোচ্চ ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড ইতালির।
অন্যদিকে অস্ট্রিয়া নাটকীয়ভাবে জায়গা করে নিয়েছে নকআউটে। গ্রুপের শেষ ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-৩ ড্র করে গোল ব্যবধানে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করে রালফ রাংনিকের দল। ম্যাচের ৯৬তম মিনিটে সাশা কালাইজিচের হেডারই তাদের বাঁচিয়ে দেয় বিদায়ের হাত থেকে। বিশ্বকাপ ইতিহাসেও জায়গা করে নিয়েছে অস্ট্রিয়া। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে পিছিয়ে পড়ার পরও ম্যাচ না হারা প্রথম দল এখন তারা। ১৯৫৪ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠেছে অস্ট্রিয়া। দীর্ঘ ৭২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন ইতিহাস গড়লেও এবার তাদের সামনে আরো কঠিন পরীক্ষা।
স্পেনের বিপক্ষে সাম্প্রতিক স্মৃতিও সুখকর নয় অস্ট্রিয়ার। সর্বশেষ ২০০৯ সালে দুই দলের দেখায় ৫-১ গোলে জিতেছিল স্পেন। আর স্পেনের বিপক্ষে অস্ট্রিয়ার শেষ জয়টি ১৯৯০ সালের একটি প্রীতি ম্যাচে।
স্পেনের আক্রমণভাগে অবশ্য কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়েছে। চোটের কারণে ইয়েরেমি পিনো, নিকো উইলিয়ামস ও ভিক্টর মুনোজের খেলা অনিশ্চিত। তবে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচজয়ী গোল করা অ্যালেক্স বায়েনা একাদশে থাকছেন নিশ্চিতভাবেই। মাঝমাঠে মিকেল মেরিনোর সঙ্গে ফাবিয়ান রুইজ, দানি ওলমো ও গাভির মধ্যে জায়গার লড়াই হবে।
অস্ট্রিয়ার শিবিরে বড় কোনো সমস্যা নেই। অভিজ্ঞ মার্কো আর্নাউটোভিচ ও ডেভিড আলাবা সামান্য হাঁটুর অস্বস্তিতে ভুগলেও তাদের খেলতে বাধা থাকার কথা নয়। প্রয়োজন হলে কেভিন ডানসো ও মাইকেল গ্রেগরিশ বিকল্প হিসেবে প্রস্তুত থাকবেন।
স্পেন কাগজে-কলমে এগিয়ে থাকলেও, শেষ মুহূর্তে ইতিহাস লিখে নকআউটে ওঠা অস্ট্রিয়া প্রমাণ করেছে—তাদের বিপক্ষে ম্যাচ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সমীকরণই শেষ নয়। এবার মাঠের লড়াইয়ের সমীকরণ দেখার পালা।