হোম > খেলা > ফুটবল বিশ্বকাপ

ইয়ামাল-ওয়ারজাবালে শীর্ষে স্পেন

স্পোর্টস ডেস্ক

ম্যাচের দশম মিনিট। মিকেল ওয়ারজাবালের কাছ থেকে ক্রসটা পেয়েই আর দেরি করলেন না লামিনে ইয়ামাল। দারুণ ডাইভে প্রতিপক্ষের গোলকিপার পরাস্ত। পরক্ষণেই উল্লাস, চিরচেনা লাফ, দুই হাত উপরে তুলে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন এবং সবুজ গালিচায় চুমু। বিশ্বকাপে শুরুর একাদশের হয়ে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে গোল পেয়ে উদযাপনটা ঠিক এভাবেই করেছেন লামিনে ইয়ামাল। ১৮ বছর বয়সী এই তরুণের ফেরার ম্যাচে ‘এইচ’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই জয়ের ধারায় ফিরেছে স্পেন। ম্যাচটি তারা জিতেছে ৪-০ গোলে। যার মধ্য ইয়ামালের গোলটি ছাড়াও দুটি গোল করেন মিকেল ওয়ারজাবাল। অন্য গোলটি উপহার দিয়েছে প্রতিপক্ষ।

এই গোলের মাধ্যমে স্প্যানিশ ফুটবলের নতুন রাজপুত্র ছুঁয়ে ফেলেছেন কিংবদন্তি পেলেকেও। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ১৮ বছর বা তার কম বয়সী কোনো খেলোয়াড়ের করা ম্যাচের প্রথম গোলের রেকর্ড এত দিন ছিল শুধু পেলের। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ওয়েলসের বিপক্ষে মাত্র ১৭ বছর বয়সে সেই কীর্তি গড়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান মহাতারকা। দীর্ঘ ৬৮ বছর পর সেই অনন্য তালিকায় নিজের নাম যোগ করলেন ইয়ামাল।

অ্যাটলান্টায় ম্যাচের শুরু থেকেই সৌদি আরবকে নিজেদের অর্ধে আটকে রাখে স্পেন। তৃতীয় মিনিটেই কর্নার থেকে প্রথম সুযোগ তৈরি করেন লামিনে ইয়ামাল, যদিও সৌদি রক্ষণ তা সামলে নেয়। এরপর একের পর এক আক্রমণে চাপ বাড়াতে থাকে স্প্যানিশরা।

অবশেষে দশম মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। সৌদি ডিফেন্ডার আল আমরির বল হারানোর সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠে স্পেন। বাম দিক থেকে মিকেল ওয়ারজাবালের নিখুঁত ক্রসে বক্সের মধ্যে বল পেয়ে সহজ ফিনিশে জালে জড়ান লামিনে ইয়ামাল।

গোলের পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে স্পেন। ২১ মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া জটলার মধ্যে সুযোগ বুঝে দ্বিতীয় গোলটি করেন ওয়ারজাবাল। তিন মিনিট পর আবারও আঘাত হানে লা রোজারা। পেদ্রো পোরোর ক্রস, কুকুরেয়ার সেটআপ এবং দানি ওলমোর হেড থেকে বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ওয়ারজাবাল। তাতে বড় লিড নিয়ে বিরতিতে যায় স্পেন।

বিরতির পর বেঞ্চের শক্তি যাচাই করতে ইয়ামাল ও ওয়ারজাবালকে তুলে নেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তবে তাতেও থামেনি স্পেনের আক্রমণ। ৪৯ মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে কুকুরেয়ার শট ঠেকালেও পরে সৌদি ডিফেন্ডার তামবাখতির গায়ে লেগে বল জালে ঢুকে যায়। আত্মঘাতী সেই গোলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-০।

এরপরও একাধিক সুযোগ তৈরি করে স্পেন। ম্যাচের শেষ দিকে স্পেনের আধিপত্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ৮৩ মিনিট পর্যন্ত তারা ২১টি শট নেয়, যেখানে সৌদি আরবের শট ছিল মাত্র তিনটি। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেস বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হলে ৪-০ ব্যবধানের স্বস্তিদায়ক জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্পেন। এই জয়ে গ্রুপপর্বে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করল স্পেন। ২ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৪, অবস্থান শীর্ষে। অন্যদিকে বড় ব্যবধানে হারলেও সৌদি আরবের নকআউটে ওঠার আশা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। ২ পয়েন্ট নিয়ে তারা আছে তিনে।

গোল করলেই মেসির বিশ্বরেকর্ড

উরুগুয়ের প্রত্যাবর্তন নাকি কেপ ভার্দের রূপকথা

হাজারতম বিশ্বকাপ ম্যাচে তিউনিসিয়াকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে বিদায় করল জাপান

ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনে স্পেন-সৌদি আরব

নকআউটের পথে এগোতে মুখোমুখি বেলজিয়াম-ইরান

সেই ব্লকবাস্টার ব্রাজিল কোথায়?

তুরস্কের এমন বিদায় কেন, কী কারণে?

এলয় রুমের বিশ্বরেকর্ডে ইকুয়েডরকে রুখে দিল কুরাসাও

উন্দাভের জোড়া গোলে দারুণ প্রত্যাবর্তনে নকআউটে জার্মানি

হাজারতম ম্যাচ জয়ে রাঙাতে চায় জাপান