বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা, কিন্তু ম্যাচ শেষে বিজয়ের উচ্ছ্বাসের চেয়ে বেশি ছিল আত্মসমালোচনার সুর। কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর অধিনায়ক লিওনেল মেসি স্বীকার করেছেন, আফ্রিকার দলটি পুরো ম্যাচজুড়েই তাদের কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছিল।
ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মেসি বলেন, কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারেনি। বিশেষ করে প্রতিপক্ষের ওপর কার্যকর চাপ তৈরি করতে ব্যর্থ হওয়ায় পুরো ম্যাচেই ছন্দ হারিয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা।
মেসি বলেন, ‘এই দলটা অনেক দিন ধরেই দেখিয়ে আসছে যে তারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে। আজ আমরা সেট-পিস থেকে গোল করতে পেরেছি, যেটা আগের কিছু ম্যাচে হচ্ছিল না। এই ধরনের টুর্নামেন্টে সেট-পিস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দলে এমন কয়েকজন খেলোয়াড় আছে যারা হেডে খুব ভালো। আমরা এই বিষয়টি নিয়ে নিয়মিত কাজ করেছি এবং আজ তার ফল পেয়েছি।’
তবে নিজের দলের দুর্বলতাও আড়াল করেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক, ‘আমরা ওদের ওপর ঠিকমতো চাপ সৃষ্টি করতে পারছিলাম না। অনেক সময় দুই লাইনের মধ্যে দূরত্ব এতটাই বেশি হয়ে যাচ্ছিল যে আমাদের সেন্টার-ব্যাকদের অনেকটা জায়গা কাভার করতে হচ্ছিল। আমরা অগোছালো ছিলাম। ওদের পায়ে সবসময় বল ছিল না, কিন্তু তারপরও তারা আমাদের ভালো পরীক্ষা নিয়েছে। কারণ আমরা কার্যকর প্রেসিং করতে পারিনি।’
মেসির মতে, কেপ ভার্দের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সই প্রমাণ করেছিল ম্যাচটি মোটেও সহজ হবে না। তার ভাষ্য, ‘আমরা জানতাম ম্যাচটা কঠিন হবে। কারণ এই দল স্পেন ও উরুগুয়ের মতো দলের বিপক্ষেও দারুণ খেলেছে। প্রথম গোল করার পর ভেবেছিলাম আমরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেব। কিন্তু উল্টো আমরা বলের দখল হারালাম, রক্ষণাত্মক হয়ে পড়লাম এবং চাপ তৈরিতে ব্যর্থ হলাম।’
তবে কঠিন ম্যাচ থেকেও ইতিবাচক কিছু খুঁজে নেওয়ার কথা বলেছেন বিশ্বকাপজয়ী এই অধিনায়ক, ‘এটি কঠিন লড়াই। এখানে কেউ আপনাকে কিছু সহজে দেবে না। নামের কারণে আমরা প্রতিপক্ষকে সম্মান করি, কিন্তু মাঠে সব ম্যাচই কঠিন। আজ আমরা বড় একটা প্রচেষ্টা দেখিয়েছি। কিছু ভালো দিক অবশ্যই ছিল, তবে ভুলও অনেক হয়েছে। এখন আমাদের বিশ্রাম নিতে হবে, ভুলগুলো শুধরে সামনে আরও শক্তভাবে ফিরতে হবে।’
কেপ ভার্দের বিপক্ষে কঠিন লড়াই পার করে ষোলোয় জায়গা করে নেওয়া আর্জেন্টিনা এবার আরও বড় পরীক্ষার অপেক্ষায়। তাদের সামনে মিসর। মেসির ভাষায়, বিশ্বকাপের এই আসরে প্রতিটি ম্যাচই যেন ফাইনালের সমান কঠিন।