হোম > খেলা > ফুটবল বিশ্বকাপ

অপরাজিত মেক্সিকোর সামনে উজ্জীবিত ইকুয়েডর

স্পোর্টস ডেস্ক

গ্রুপ পর্বে শতভাগ সাফল্য, তিন ম্যাচে তিন জয়, সঙ্গে একটিও গোল হজম না করা—স্বাগতিক মেক্সিকো গ্রুপ পর্বের দুর্দান্ত ছন্দ নিয়েই নামছে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে। তবে রাউন্ড অব ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ মোটেই সহজ নয়, গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারিয়ে চমকে দেওয়া ইকুয়েডর। মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৭টায় মুখোমুখি হবে দুদল।

হাভিয়ের আগিরের মেক্সিকো এবারের বিশ্বকাপে শুরু থেকেই আধিপত্য দেখিয়েছে। প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারানোর পর দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ এবং শেষ ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এল ত্রি। তিন ম্যাচে ছয় গোল করলেও একবারও বল তুলতে হয়নি নিজেদের জাল থেকে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ছয়টি ম্যাচ জিতেছে মেক্সিকো।

অন্যদিকে ইকুয়েডরের পথ ছিল অনেক বেশি কঠিন। প্রথম ম্যাচে আইভরি কোস্টের কাছে ৯০ মিনিটের গোলে ১-০ ব্যবধানে হারের পর কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ২৭টি শট নিয়েও গোলশূন্য ড্র করে তারা। ফলে শেষ ম্যাচে জার্মানির বিপক্ষে জয় ছাড়া সামনে এগোনোর পথ প্রায় বন্ধই ছিল।

সেই ম্যাচেই দারুণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ইকুয়েডর। শুরুতে লেরয় সানের গোলে পিছিয়ে পড়লেও নিলসন অ্যাঙ্গুলো সমতা ফেরান। এরপর ৭৭ মিনিটে গঞ্জালো প্লাতার জয়সূচক গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেয় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। ইতিহাসে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব পেরিয়েছে ইকুয়েডর। এর আগে ২০০৬ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোয় উঠলেও ইংল্যান্ডের কাছে ডেভিড বেকহামের ফ্রি-কিকে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল।

পরিসংখ্যান অবশ্য মেক্সিকোর পক্ষেই। দুই দল এখন পর্যন্ত ২৮ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে মেক্সিকো জিতেছে ১৭টি ম্যাচ, ইকুয়েডরের জয় মাত্র চারটি, আর সাতটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রীতি ম্যাচে ১-১ সমতা ছিল ফল। বিশ্বকাপে একমাত্র দেখায় ২০০২ সালে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল মেক্সিকো।

দুদলই প্রায় পূর্ণ শক্তির স্কোয়াড নিয়ে মাঠে নামবে। বিশ্রামের পর আবার শুরুর একাদশে ফিরতে পারেন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রাউল হিমেনেজ। গোলবারের নিচে থাকবেন রাউল রাঙ্গেল, যিনি চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে খেলেই লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর বিশ্বকাপের ছয় আসরে মাঠে নামা তৃতীয় ফুটবলার হওয়ার কীর্তি গড়েছেন। ১৭ বছর বয়সি গিলবার্তো মোরা বেঞ্চে থাকলেও প্রয়োজনে তাকে ব্যবহার করতে পারেন আগিরে।

ইকুয়েডর কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসেও জার্মানিকে হারানো একাদশেই আস্থা রাখছেন। গঞ্জালো প্লাতা থাকবেন আক্রমণে, আর নজর থাকবে অধিনায়ক এনার ভ্যালেন্সিয়ার দিকে। ৩৬ বছর বয়সি এই স্ট্রাইকার দেশের হয়ে ৫০তম আন্তর্জাতিক গোল থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে।

দারুণ ছন্দ, স্বাগতিক সমর্থন এবং শক্তিশালী রক্ষণভাগের কারণে কাগজে-কলমে এগিয়ে মেক্সিকো। তবে জার্মানিকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা ইকুয়েডরও যে সহজে হার মানবে না, সেটি ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে। তাই শেষ ষোলোর টিকিটের এই লড়াইয়ে জমজমাট একটি ম্যাচেরই অপেক্ষা ফুটবলপ্রেমীদের।

আর্জেন্টিনা ছাড়া ফ্রান্সকে ঠেকানোর মতো কেউ নেই!

ব্রাজিল ম্যাচে হালান্ডকে ‘বিশ্রাম’ নিতে বললেন রদ্রিগো

‘ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলব ভাবতেই অবিশ্বাস্য লাগে’

যুক্তরাষ্ট্র-বসনিয়ার টিকে থাকার লড়াই

মেক্সিকোতে জয়ের আনন্দে নেমে এলো শোকের ছায়া

বেলজিয়ামের সেনেগাল-পরীক্ষা

‘মেসি সুপারম্যান, রোনালদো ব্যাটম্যান’

চার খেলোয়াড়ের পেনাল্টি নিতে অনীহা, জার্মানির বিদায়ের পর চাঞ্চল্যকর দাবি

ব্যক্তিগত রেকর্ড নয়, এমবাপ্পের চোখ ট্রফিতে

ইকুয়েডরেকে বিদায় করে রাউন্ড অব সিক্সটিনে মেক্সিকো