দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বপ্ন দেখছে আর্সেনাল। সেই স্বপ্ন পূরণের পথে আর মাত্র একটি জয় দূরে দাঁড়িয়ে মিকেল আর্তেতার দল। তবে শেষ ধাপের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)।
শনিবার বুদাপেস্টে অনুষ্ঠিত হবে ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসরের ফাইনাল। বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় শুরু হওয়া ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে সনি স্পোর্টস ২।
আর্সেনালের জন্য এটি কেবল একটি ফাইনাল নয়, বরং ক্লাব ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লেখার সুযোগ। সম্প্রতি ২২ বছর পর প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জিতে আত্মবিশ্বাসে টগবগ করছে লন্ডনের ক্লাবটি। আর্তেতার নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের অপূর্ণতা কাটিয়ে তারা এখন ইউরোপের সিংহাসনও ছুঁতে চায়।
২০০৬ সালে নিজেদের একমাত্র চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে হেরেছিল আর্সেনাল। এরপর বহু বছর ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ে নিজেদের হারিয়ে ফেলেছিল দলটি। কখনও শেষ ষোলোতে বিদায়, কখনও আবার টুর্নামেন্টেই জায়গা হয়নি। তবে আর্তেতার হাত ধরে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়িয়েছে গানাররা।
দুই বছর আগে কোয়ার্টার ফাইনাল এবং গত মৌসুমে সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছানোর পর এবার শিরোপার খুব কাছাকাছি তারা। মজার ব্যাপার হলো, গত মৌসুমে সেমিফাইনালেই পিএসজির কাছে বিদায় নিতে হয়েছিল আর্সেনালকে। এবার সেই প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ এসেছে।
আর্সেনালের শক্তির জায়গা তাদের রক্ষণভাগ। চলতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১৪ ম্যাচে মাত্র ৬ গোল হজম করেছে তারা। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৯টি ম্যাচে প্রতিপক্ষকে গোল করতে দেয়নি গানাররা। প্রিমিয়ার লিগেও ১৯টি ম্যাচে ক্লিন শিট রেখেছে দলটি।
অন্যদিকে লুইস এনরিকের পিএসজি আক্রমণাত্মক ফুটবল, গতি এবং সৃজনশীলতার কারণে এবারের আসরের অন্যতম আকর্ষণীয় দল। তাই ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুই ভিন্ন দর্শনের দুটি দল—একদিকে আর্সেনালের সংগঠিত ও বাস্তববাদী ফুটবল, অন্যদিকে পিএসজির আক্রমণনির্ভর ঝলমলে খেলা।
সাবেক আর্সেনাল মিডফিল্ডার পল মার্সনের মতে, ফাইনালে প্রথম গোলটি হতে পারে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণকারী মুহূর্ত।
তার ভাষায়, “পিএসজি জানে আর্সেনাল ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলে ম্যাচে ফেরা কতটা কঠিন হয়ে যেতে পারে। তাই প্রথম গোলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
একসময় ‘তীরে এসে তরী ডোবা দল’ হিসেবে পরিচিত ছিল আর্সেনাল। তবে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জয়ের মাধ্যমে সেই অপবাদ অনেকটাই মুছে ফেলেছে তারা। এখন ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে পারলে ক্লাবটির নবজাগরণ পূর্ণতা পাবে।