শক্তির পার্থক্যটা ছিল স্পষ্ট। তবু প্রথমার্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল বাংলাদেশ, বিরতির পর চেষ্টা করেছিল ম্যাচে ফেরার। কিন্তু এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে সেই লড়াই শেষ পর্যন্ত টেকেনি। বড় ব্যবধানে হারের দুঃসহ অভিজ্ঞতা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় ঋতুপর্ণা চাকমা, আনিকা সিদ্দিকী, শামসুন্নাহারদের। ‘এফ’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৬-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। এ নিয়ে গ্রুপে টানা দুই ম্যাচে হারল বাংলাদেশ। এর আগে প্রথম ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল পিটার বাটলারের দল।
তবে টানা দুই হারেও বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনালের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়নি। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ২১ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে জয় পেলে তৃতীয় সেরা দল হিসেবে পরের রাউন্ডে ওঠার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে বড় হারের পর দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে একাদশে পরিবর্তন আনেন কোচ পিটার বাটলার। ছয়জন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে শুরুর একাদশে ফেরানো হয়। শুরু থেকেই রক্ষণ জমাট রাখার পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়াকে বেশিক্ষণ আটকে রাখা যায়নি। ১৬ মিনিটেই লিড নেয় তারা। কিম মিন-জি গোল করে এগিয়ে দেন দলকে। ৪২ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন জং দা-বিন।
দুই গোল পিছিয়ে বিরতিতে গেলেও দ্বিতীয়ার্ধে ভিন্ন চেহারায় মাঠে নামে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের তুলনায় পাসিংয়ে বেশি মনোযোগী হয় তারা। বল নিজেদের দখলে রেখে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেন ঋতুপর্ণা, মনিকারা। তাতে সুযোগও তৈরি হয়। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার রক্ষণ আর গোলকিপারের বীরত্বে হতাশ হতে হয় বাংলাদেশকে। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিয়ে নেয় দক্ষিণ কোরিয়া। মাত্র ১৪ মিনিটে তিন গোল করে ম্যাচের ভাগ্য কার্যত নিশ্চিত করে ফেলে এশিয়ার শক্তিশালী দলটি। দুটি গোল করেন চোই ইউরি, একবার জাল খুঁজে নেয় জি সুউন। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে কো ইউ-জিন ষষ্ঠ গোলটি করেন।
টানা দুই ম্যাচে ১৬ গোল হজম করে এখন শেষ ম্যাচের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে ঋতুপর্ণাদের। ২১ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের বিপক্ষে সেই ম্যাচই হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের এশিয়ান গেমসের পরবর্তী পথ নির্ধারণের লড়াই।