ফুটবলকে বিদায় জানালেন স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী তারকা পেদ্রো রদ্রিগেজ। ৩৯ বছর বয়সে পেশাদার ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন সাবেক বার্সেলোনা উইঙ্গার। লাৎসিওতে শেষ হয়েছে তাঁর ক্লাব অধ্যায়। এরপর আর কোনো নতুন ঠিকানা নয়, বরং জীবনের নতুন অধ্যায়ের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্প্যানিশ এই তারকা।
পেদ্রোর ক্যারিয়ারকে আলাদা করে চেনাতে বড় কোনো বিশেষণের প্রয়োজন নেই। স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়, বার্সেলোনার সোনালি যুগের অংশ হওয়া, চ্যাম্পিয়নস লিগের তিনটি শিরোপা এবং চেলসির হয়ে প্রিমিয়ার লিগ জেতা; সব মিলিয়ে তাঁর ঝুলিতে জমেছে ২৫টি বড় শিরোপা।
স্পেনের হয়ে পেদ্রোর সবচেয়ে উজ্জ্বল স্মৃতি ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ফাইনালে শুরুর একাদশে ছিলেন তিনি। বিশ্বকাপ জয়ের দুই বছর পর ২০১২ সালে স্পেনের হয়ে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপও জেতেন। জাতীয় দলের জার্সিতে ৬৫ ম্যাচ খেলে তাঁর গোল ১৭টি।
বার্সেলোনায় পেদ্রোর উত্থানও ছিল স্বপ্নের মতো। ২০০৮ সালে মূল দলে জায়গা করে নিয়ে পেপ গার্দিওলার অধীনে হয়ে ওঠেন দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ২০০৯ সালে বার্সার ঐতিহাসিক ছয় শিরোপা জয়ের মৌসুমে তাঁর ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ক্লাবটির হয়ে জিতেছেন তিনটি চ্যাম্পিয়নস লিগ ও পাঁচটি লা লিগা।
২০১১ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে বার্সেলোনার ৩-১ জয়ে প্রথম গোলটি করেছিলেন পেদ্রো। কাতালান ক্লাবটির হয়ে ৩২১ ম্যাচে তাঁর গোল ৯৯টি। সেই সময় একই দলে খেলেছেন লিওনেল মেসি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ও জাভি হার্নান্দেজের মতো তারকার সঙ্গে।
বিদায়ী ভিডিওতে বার্সেলোনা অধ্যায়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে পেদ্রো বলেন, ‘বার্সেলোনার ইতিহাসের সেরা দলের অংশ হতে পারা ছিল বিশেষ এক সৌভাগ্য। আমরা সবকিছু জিতেছি এবং বিশ্বকে মুগ্ধ করেছি।’
২০১৫ সালে বার্সেলোনা ছাড়ার পর নতুন চ্যালেঞ্জ নেন চেলসিতে। ইংলিশ ক্লাবটির হয়ে ২০১৭ সালে প্রিমিয়ার লিগ জেতেন। পরে এফএ কাপ ও ইউরোপা লিগও জেতেন তিনি। এরপর ইতালিতে পাড়ি দিয়ে এক মৌসুম রোমায় কাটিয়ে যোগ দেন লাৎসিওতে। সেখানেই শেষ হয় তাঁর ক্লাব ক্যারিয়ার। লাৎসিওর হয়ে ২০০টির বেশি ম্যাচ খেলেছেন পেদ্রো।
বিদায়ের ঘোষণা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পেদ্রো লিখেছেন, ‘আমার মনে হচ্ছে, সেই মুহূর্ত এসে গেছে। জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার সময় এসেছে। নিজের স্বপ্ন বেঁচে নেওয়া এবং সেটি বাস্তবায়নে পাশে থাকা সব মানুষের জন্য আমি গর্বিত।’
স্পেনের বিশ্বকাপজয়ের স্মৃতিও শেষবারের মতো ফিরে দেখেছেন তিনি। পেদ্রোর ভাষায়, ‘একদিন প্রায় বিশ্বাসই করতে পারিনি—আমি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে গেলাম। বিশ্বকাপ ফাইনালে শুরুর একাদশেও ছিলাম।’
টেনেরিফে শুরু, বার্সেলোনার সোনালি যুগ, স্পেনের বিশ্বকাপজয়, চেলসির সাফল্য আর ইতালিতে দীর্ঘ শেষ অধ্যায়ল; সব মিলিয়ে দুই দশকের ফুটবলযাত্রার পর এবার থামলেন পেদ্রো। মাঠ ছাড়লেও ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী স্পেন ও গার্দিওলার বার্সেলোনার স্মরণীয় প্রজন্মের সঙ্গে তাঁর নাম থেকে যাবে ইতিহাসের পাতায়।