বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ পরিচালনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়া সোমালিয়ান রেফারি ওমর আবদুলকাদির আর্তানকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে মুখ খুলেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘একটু শান্ত হোন, ধৈর্য ধরুন। আমরা বিষয়গুলো সমাধানের চেষ্টা করছি।’
মেক্সিকোতে ২০২৬ বিশ্বকাপ উপলক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইনফান্তিনো স্বীকার করেন, সোমালিয়ার আন্তর্জাতিক রেফারি ওমর আর্তানের সঙ্গে যা ঘটেছে তা ‘দুঃখজনক’। তবে একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, কোনো দেশের অভিবাসন বা ভিসা নীতির ওপর ফিফার নিয়ন্ত্রণ নেই।
ইনফান্তিনো বলেন, “সোমালিয়ার রেফারি ওমরের সঙ্গে যা ঘটেছে, সেটি অবশ্যই দুর্ভাগ্যজনক। কিন্তু আমরা সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করি না। কখনও কখনও একটু শান্ত থাকা দরকার। আমরা সব বিষয় নিয়েই কাজ করছি এবং সমাধানের চেষ্টা করছি।”
তবে তার ‘চিল, রিল্যাক্স’ মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ব্যাখ্যা দেন ফিফা সভাপতি। তিনি বলেন, এর অর্থ এই নয় যে ফিফা হাত গুটিয়ে বসে আছে, “আমি যখন শান্ত থাকার কথা বলি, তখন কিছু না করার কথা বলি না। আমি বলতে চাই, আমাদের ওপর আস্থা রাখুন। আমরা নেপথ্য কাজ করছি, বিষয়গুলো বোঝার চেষ্টা করছি এবং ইতিবাচক সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।”
তিনি আরও জানান, বিশ্বকাপ আয়োজনের মতো বড় আসরে বিভিন্ন দেশের নীতিমালা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সমন্বয় করেই কাজ করতে হয়। সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ফিফা সম্ভাব্য সব সমাধানের পথ খুঁজছে। তিনি আরও বলেন, “আমরা চাঁদে বাস করি না, পৃথিবীতেই বাস করি। এখানে বিভিন্ন পরিস্থিতি ও বিভিন্ন সরকারের নীতির সঙ্গে কাজ করতে হয়। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি এবং আশা করি শিগগিরই কিছু ইতিবাচক খবর দিতে পারব।”
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ পরিচালনা করে ইতিহাস গড়ার কথা ছিল ৩৪ বছর বয়সী ওমর আর্তানের। সেটা হলে তিনিই প্রথম সোমালি রেফারি হিসেবে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দায়িত্ব পালন করতেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর তাকে দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
এ ঘটনায় বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে সোমালিয়া সরকার। এক বিবৃতিতে দেশটির সরকার জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তারা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে এবং নিজেদের নাগরিকদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
এদিকে হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে বলেছেন, বিশ্বকাপ চলাকালে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার স্বার্থেই কিছু আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণকারীর প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালনের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পর বুধবার ইস্তাম্বুল হয়ে সোমালিয়ায় ফিরে যান ওমর আর্তান। দেশে ফেরার পরও তিনি আশাবাদী কণ্ঠে জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে বিশ্বকাপের মঞ্চে দায়িত্ব পালনের সুযোগ তিনি অবশ্যই পাবেন।