রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে সম্পর্ক চুকিয়ে ব্রাজিলে পাড়ি জমিয়েছেন কার্লো আনচেলত্তি। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে একটু একটু করে গুছিয়ে নিচ্ছেন সেলেসাওদের। ব্রাজিলে পা রেখেই ভালো লেগে গেছে এই ইতালিয়ান কোচের। শুধু এই বিশ্বকাপই নয়, আনচেলত্তি ব্রাজিল ফুটবল দলের সঙ্গে থেকে যেতে চান আরো চার বছর। তার মানে ২০৩০ বিশ্বকাপেও পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ডাগআউটে থাকতে চান বিখ্যাত এই ফুটবল কোচ।
কার্লো আনচেলত্তি জানিয়েছেন, তিনি ব্রাজিল জাতীয় দলের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি করতে প্রস্তুত আছেন। আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপের পরও তিনি সেলেসাওদের কোচ হিসেবে থেকে যেতে চান। নতুন চুক্তিটি হলে তিনি ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ব্রাজিলের দায়িত্বে থাকতে পারবেন। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, আসন্ন সপ্তাহগুলোয় এ চুক্তি স্বাক্ষর হবে। একই সঙ্গে তিনি ব্রাজিলিয়ানদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক কোচ আনচেলত্তি বর্তমানে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল দলের দায়িত্ব পালন করছেন। তার সোনার কাঠির ছোঁয়ায় বদলে গেছে খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া ব্রাজিল দল। নতুন এ চ্যালেঞ্জ নিয়ে দারুণ খুশি আনচেলত্তি। টিভি অনুষ্ঠান ‘ইউনিভার্সো ভালদানো’-এর একটি প্রোমোতে বলেছেন, তিনি কোচিং করে খুবই সন্তুষ্ট এবং চার বছরের জন্য চুক্তি নবায়ন করতে চান।
২০০২ সালে ব্রাজিল সবশেষ বিশ্বকাপ জেতে। আনচেলত্তির কোচিংয়ে দীর্ঘ ২৪ বছরের অপেক্ষা ঘোচানোর লক্ষ্য নিয়ে তারা মাঠে নামবে। যদিও বাছাইপর্বে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স ছিল বিশৃঙ্খল। ব্রাজিল ফুটবলে নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আনচেলত্তি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি ব্রাজিলের সঙ্গে চার বছরের জন্য চুক্তি নবায়ন করব। এটি নতুন কাজ এবং আমি এটি খুব পছন্দ করি।’
আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রথমবারের মতো কোচিং শুরু করেন ২০২৫ সালের মে মাসে। এর আগে রিয়াল মাদ্রিদকে ৬৬ বছর বয়সি এই কোচ সাফল্যের শীর্ষে তুলেছিলেন। আসন্ন বিশ্বকাপে ব্রাজিল সব সময়ের মতোই অন্যতম ফেভারিট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও অনেকে মনে করেন, ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেন, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, শক্তিশালী ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড ব্রাজিলিয়ানদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।
সম্প্রতি রিয়ালের হয়ে মাঠে নেমে বর্ণবাদের শিকার হন ব্রাজিল তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। প্রিয় শিষ্যকে নিয়ে আনচেলত্তি বলেন, ‘আমি তার সঙ্গে কথা বলেছি। একজন খেলোয়াড়কে কোচ ও সতীর্থদের সম্মান করতে হবে। মাঠে তার আচরণ অনেক উন্নত হয়েছে। ব্রাজিলিয়ানরা খুব বিনয়ী, তারা ভিন্ন ধরনের। এখানে যে ভিনি আসে, মানবিক দিক থেকে সে রিয়াল মাদ্রিদের ভিনির চেয়ে আলাদা।’