আরেকটি বর্ণিল অধ্যায়ের সমাপ্তি। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের সহজ জয় দিয়ে মাঠ ছাড়লেও মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামের আবহ ছিল ভারী ও বেদনাবিধুর। কারণ একটাই—আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সি গায়ে লিওনেল মেসির শেষ বিদায়। ম্যাচ শেষে পুরো স্টেডিয়াম যখন আবেগপ্রবণ, তখন সতীর্থদের বুকফাটা কান্নায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
বিশেষ করে মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজের কান্না ছুঁয়ে গেছে সবার মন। প্রিয় অধিনায়কের বিদায়ের মুহূর্তে মাঠেই নিজের আবেগ আটকে রাখতে পারেননি তিনি। ম্যাচ শেষে টিওয়াইসি স্পোর্টসকে এনজো বলেন, ‘সত্যি বলতে, দিনটা খুব আবেগের ছিল। অনেক রকম অনুভূতি একসঙ্গে কাজ করছিল। আশা করি, লিওও রাতটা উপভোগ করেছে। আমরা তাকে খুব মিস করব।’
গত ৩১ আগস্ট লিওনেল মেসি আনুষ্ঠানিকভাবে বুট জোড়া তুলে রাখার ঘোষণা দেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের শেষ মুহূর্তে এসে তার এই বিদায় শুধু ভক্তদেরই নয়, নাড়িয়ে দিয়েছে তার সতীর্থদেরও। এনজো ফার্নান্দেজের কাছে মেসি কেবল একজন সতীর্থ ছিলেন না; ছিলেন কৈশোরের আদর্শ ও অনুপ্রেরণা।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এনজো অতীতে লেখা একটি চিঠির কথা মনে করিয়ে দেন। ২০১৬ সালে ১৫ বছর বয়সে মেসি যখন প্রথমবার সাময়িক অবসর নিয়েছিলেন, তখন একটি চিঠিতে এনজো লিখেছিলেন, ‘তোমার আর আমার বয়সের ব্যবধান হিসাব করতাম। ভাবতাম, কোনো একদিন তোমার সঙ্গে খেলতে পারব কি না। স্বপ্ন দেখতাম, আর্জেন্টিনার জার্সিতে অন্তত একবার একসঙ্গে মাঠে নামব।’
ভাগ্যের জোরে সেদিন মেসি ফিরে এসেছিলেন এবং এনজোর সেই স্বপ্নও সত্যি হয়েছিল। সেই রূপকথার মতো যাত্রার শেষ হলো। ভক্তের মন থেকে সতীর্থ হওয়া এবং বিদায়ের দিনে সেই ভক্তেরই চোখের জলে ভেসে রইল লিওনেল মেসির বিদায়ী রাত।