ফিফা প্রীতি ম্যাচে ইউরোপের দেশ সান মারিনোর বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় দিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে কোচ থমাস ডুলি। এই জয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও বাংলাদেশের দুর্বলতা দেখছেন জার্মান বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের এই কোচ। ফিনিশিং দুর্বলতা, বলের নিয়ন্ত্রণ হারানো ও খেলোয়াড়দের ভুল পাসসহ অনেক কিছুই কোচ ডুলির চোখে ধরা পড়েছে।
ম্যাচশেষে বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘আমাদের প্রধান দুর্বলতা হলো—গোল করার জন্য এখনো অনেক সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।’ বেশ কিছু টেকনিক্যাল বিষয় তুলে ধরে ডুলি আরো বলেছেন, পেছন থেকে আক্রমণে গিয়ে ছন্দ হারিয়েছে দল। ডুলির কণ্ঠে, ‘কখনো কখনো আমরা ফাস্ট টাচ সঠিকভাবে করতে পারিনি। যে কারণে অনুশীলনে আমি মৌলিক জিনিসগুলো নিয়ে দলের সঙ্গে কাজ করেছি। বিশেষ করে নিখুঁত পাস ও রিসিভের ক্ষেত্রে। আমরা পেছন থেকে গিয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছি। যেটি ফুটবল মাঠে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। শুরু থেকেই আমি খেলোয়াড়দের এ ব্যাপারে সতর্ক করেছিলাম।’
দলের যে দুর্বলতাগুলো নতুন কোচ ডুলির চোখে পড়লেও সেগুলো অনুশীলন ও মানসিক ভাবনার পরিবর্তনের মাধ্যমে সংশোধন করা সম্ভব। কোচের মতে, এজন্য মানসিকতা বদলাতে হবে। অনুশীলনের প্যাটার্নসও পাল্টাতে হবে। খেলার ধরনেও আনতে হবে অনেক পরিবর্তন। ডুলির জানান, ইউরোপের দল হিসেবে সান মারিনো অনেক শক্ত প্রতিপক্ষ ছিল। র্যাংকিংয়ে পিছিয়ে থাকলেও এমন দলের বিপক্ষে জেতাটা খুবই প্রশংসনীয় ব্যাপার। দলের পারফরম্যান্সে বেজায় খুশি ডুলি বলেন, ‘আমি র্যাংকিংয়ে ২২, ৪২, ৩৭, ৭৬, ১২০তম দলের বিপক্ষে তাদের (সান মারিনো) পারফরম্যান্স দেখেছি। ভালো করেছে তারা। তাই আমি কিছুটা শঙ্কিত ছিলাম।’
সান মারিনোকে হারানোর পেছনে বাংলাদেশের সমর্থকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করেন ডুলি। বাংলাদেশ কোচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন, ‘সান মারিনোয় কী অবিশ্বাস্য একটি রাত কাটল! বাংলাদেশের ২-১ গোলের জয় এবং লড়াই, আত্মবিশ্বাস ও প্রাণশক্তিতে পূর্ণ একটি পারফরম্যান্স। তবে আমি বিশেষ ধন্যবাদ জানাতে চাই আমাদের সঙ্গে থাকা হাজার হাজার বাংলাদেশি সমর্থককে। আপনাদের উন্মাদনা ছিল অবিশ্বাস্য।’ তিনি আরো লিখেছেন, ‘আপনাদের এই আবেগের জন্য ধন্যবাদ। আমাদের ওপর বিশ্বাস রাখার জন্য ধন্যবাদ। বাংলাদেশ ফুটবলের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ধন্যবাদ। একসঙ্গে, আমরা এভাবে অসম্ভবকে জয় করে যাব।’