মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরে আসিয়ান কাপের মিশন শুরু করল বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে যে পারফরম্যান্স দেখাল দল, সেটিকে বেশ স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছেন বাংলাদেশ কোচ থমাস ডুলি। ম্যাচ শেষে জার্মান বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের এই কোচ বলেছেন, ফিফা র্যাংকিংয়ে মালয়েশিয়া কেন অনেক ওপরেÑবাংলাদেশের বিপক্ষে সে প্রমাণ দিয়েছে তারা। নির্ভুল খেলা, কৌশল আর দক্ষতার দিক থেকে দুদলের মধ্যে পার্থক্য প্রকটভাবে ফুটে উঠেছে। বাংলাদেশ নির্ভুল খেলতে পারেনি। পাসিংয়ে অনেক ভুল হয়েছে। ফাঁকা জায়গায় পেয়ে গোলের সামনে উঠে খেলার সুযোগ পেয়েছেন মালয়েশিয়ানরা। বাংলাদেশের শুরুটা ছিল ধীরগতির।
ডুলি বলেন, ‘আমরা তাদের চেপে ধরে রেখে খেলার চেষ্টা করেছি, যাতে তারা সুযোগ না পায়। তবে তারা কিছু সুযোগ তৈরি করেছে। তাদের খেলোয়াড়দের মান দেখুন, তারা ওপরে উঠে খেলেছে। এটা অন্য লেভেলের।’ তিনি আরো বলেন, ‘রক্ষণভাগ রক্ষণভাগের মতোই পারফরম্যান্স করেছে। তাদের তিনজন আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় আছেন, তারা অবিশ্বাস্য। তাদের গতি, ক্ষীপ্রতা আর টেকনিক অসাধারণ। তারা খুবই বিপজ্জনক। তারা বাঁ পা দিয়ে খেলে, আবার ডান পা দিয়েও খেলে। তাই বক্সের খেলোয়াড়কে সামনে পাঠানো যাবে না। যদি আমরা তাকে একা ছেড়ে দিই, অবশ্যই সে গোল করবে।’
খেলোয়াড়রা ভুল করলেও সব মিলে তাদের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কোচ ডুলি। তিনি বলেন, ‘যে ম্যাচটি হয়েছে, সেখানে তাদের (মালয়েশিয়া) ও আমাদের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে। তাই খেলোয়াড়রা খারাপ পারফরম্যান্স করেছেÑসেটি বলব না। তারা সবাই চেষ্টা করেছে। এখান থেকে আমাদের শিখতে হবে। ম্যাচের ভিডিও আমাদের বিশ্লেষণ করা দরকার। প্রতিটি খেলা দেখতে হবে। তারপর সেখান থেকে শিখতে হবে। পরবর্তী ম্যাচের আগে আমাদের হাতে বেশি সময় নেই। তবে ভবিষ্যতের জন্য সেটি কাজে দেবে।’ হামজাকে পুরো মাঠেও দরকার বলে জানান কোচ ডুলি। রক্ষণভাগ, মিডফিল্ড কিংবা আক্রমণ ভাগেও হামজাকে দরকার। তবে ফাহামেদুল ও নতুন প্রবাসী ফুটবলার শুকি যে পারফরম্যান্স দেখালেন, তাতে খুশি বাংলাদেশ কোচ। শুকির প্রশংসা করে ডুলি বলেন, সে ভালো খেলেছে। আক্রমণভাগে আরেকটু ভালো করতে হবে, পাওয়ারফুল হতে হবে। আর সেটি করতে পারবেন শুকি।
মালয়েশিয়া ম্যাচ ভুলে কোচ ডুলির চোখ এখন সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া ম্যাচের দিকে। তিনি বলেন, ‘এই ম্যাচ থেকে আমাদের শেখার আছে। এখন সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচে আরো ভালো করার চেষ্টা করব। এরপর ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ভালো একটি ম্যাচ খেলার চেষ্টা করব আমরা। এজন্য সবাই কঠোর পরিশ্রম করছে। কোচ ডুলি মনে করেন, আসিয়ান কাপের আগে বাংলাদেশ শেষ ম্যাচ খেলেছিল সান মারিনোর বিপক্ষে গত জুনে। এরপর ঘরোয়া লিগেও খেলেনি ফুটবলাররা। এ অবস্থায় মালয়েশিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলেছে বাংলাদেশ। সব মিলে ম্যাচে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিয়ে খুশি বাংলাদেশ কোচ ডুলি। তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে শিখতে এসেছি।’