বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসপিএ) আয়োজিত কুল বিএসপিএ স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে হঠাৎ চমক হয়ে এলেন জাতীয় ফুটবল দলের নতুন কোচ থমাস ডুলি। সেখানে নতুন কোচকে পরিচয় করিয়ে দেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। বাংলাদেশকে নিয়ে নিজের লক্ষ্যের কথা জানালেন ৬৫ বছর বয়সি কোচ ডুলি।
তিনি জানান, বাংলাদেশ সম্পর্কে আগেই কিছুটা জানাশোনা ছিল তার। সুযোগ পেয়ে সেটি লুফে নিলেন। দর্শকদের প্রত্যাশার চাপ ও সমালোচনা প্রসঙ্গে ডুলি বলেন, ‘এজন্য আমি প্রস্তুত। আমি জার্মানি থেকে এসেছি এবং জার্মানিতেও একই অবস্থা। বাংলাদেশে হয়তো ১০ লাখ কোচ আছেন, তারা সবাই ফুটবল বোঝেন এবং এটি ভালো। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। আমি সব সময় আমার খেলোয়াড়দের এবং ফেডারেশনকে বলি, লক্ষ্য যদি বাস্তবসম্মত হয় তবে আমরা যেকোনো কিছু অর্জন করতে পারি। আমরা গত ২৩ বছরে কিছু জিতিনি, এখন সময় এসেছে তা করার।’
ডুলি আরো বলেন, ‘আমার লক্ষ্য হলো দলটিকে এমন এক অবস্থানে নিয়ে যাওয়া, যেখানে তারা সুন্দর ফুটবল খেলে আরো আকর্ষণ অর্জন করবে। আমি ফুটবল খেলতে ভালোবাসি, ফুটবলের পেছনে দৌড়াতে পছন্দ করি না। আমি আমার খেলোয়াড়দেরও এটাই বলি। বল তাড়া করা আমি পছন্দ করি না। এতে কোনো কারণ ছাড়াই দৌড়াতে হয়, বল ফেরত পাওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। অথচ বেশিরভাগ সময় বল ফেরত পাওয়া যায় না। আমি ফুটবল খেলতে পছন্দ করি।’
খেলোয়াড়দের উদ্দেশে কোচ ডুলি বলেন, ‘আমি খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করতে চাই। কারণ, এর জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। এখানে উপস্থিত সব চ্যাম্পিয়ন এর জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছেন। আমাদের খেলোয়াড়দের উচিত তাদের সঙ্গে কথা বলা- এ স্তরে পৌঁছানোর জন্য তারা জীবনে কী কী ত্যাগ স্বীকার করেছেন? পুরস্কার পাওয়ার আগে যে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়, বিষয়টি আমাদের খেলোয়াড়দের মাথায় ঢোকাতে হবে। আপনি যদি কিছু অর্জন করতে চান, তবে আপনার জীবন থেকে কিছু জিনিস ত্যাগ করতে হবে। আর যারা এটি করতে প্রস্তুত, আমরা তা অর্জন করতে পারব।’
বাংলাদেশকে ফিফা র্যাংকিংয়ে ১৬০ বা ১৫০-এর মধ্যে নিয়ে আসতে চান ডুলি। তার মতে, এটি রাতারাতি হবে না। এজন্য একটি প্রক্রিয়া দরকার। আমি এ বিষয়ে একটি বইও লিখেছি—দ্য ট্রুথ অ্যাবাউট সাকসেস ইন সকার দ্যাট নো ওয়ান টিচেস। সেখানে চারটি স্তম্ভ রয়েছে এবং যার একটি হলো মানসিকতা। মানসিকতা পরিবর্তন করা যাবে না, এটি আপনার চিন্তাভাবনার ধরন। আমাদের ফুটবল নিয়ে চিন্তা করতে হবে এবং আমাদের কী করা দরকার তা বুঝতে হবে। তাহলেই আমরা যেকোনো কিছু অর্জন করতে পারব। লক্ষ্য বাস্তবসম্মত হতে হবে। আগামীকালের মধ্যে না হলেও হয়তো এক বছরের মধ্যে ১৬০-এর নিচে আসা বাস্তবসম্মত।