হোম > খেলা > ফুটবল

বিশ্বকাপে কর জটিলতায় বিপাকে অর্ধেকের বেশি দেশ

স্পোর্টস ডেস্ক

আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ সালের আসরে বড় ধরনের আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর অর্ধেকেরও বেশি। ফিফা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে সর্বজনীন কর-ছাড় চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারায় এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে করচুক্তির পার্থক্যের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে বেশ বিপাকে পড়েছে বেশির ভাগ দেশ।

অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ফিফা ১৯৯৪ বিশ্বকাপের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে করমুক্ত সুবিধা ভোগ করলেও সেই সুবিধা ৪৮টি অংশগ্রহণকারী দেশের সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ফলে জাতীয় ফুটবল ফেডারেশনগুলোকে টুর্নামেন্ট থেকে প্রাপ্ত আয়ের ওপর ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের কর দিতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই করের বোঝা সবচেয়ে বেশি পড়বে ছোট দেশগুলোর ওপর, যাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ডাবল ট্যাক্সেশন অ্যাগ্রিমেন্ট’ (ডিটিএ) নেই। ৪৮টি দেশের মধ্যে মাত্র ১৮টির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এমন চুক্তি রয়েছে, যার বেশির ভাগই ইউরোপীয় দেশ। কানাডা ও মেক্সিকো ছাড়া ইউরোপের বাইরে অস্ট্রেলিয়া, মিসর, মরক্কো ও দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে এই সুবিধা রয়েছে। ফলে কুরাসাও ও কেপ ভার্দের মতো ছোট বা প্রথমবার অংশ নেওয়া দেশগুলোর করের পরিমাণ ইংল্যান্ড বা ফ্রান্সের মতো বড় দেশের তুলনায় বেশি হতে পারে।

তবে খেলোয়াড়দের আয়ের ক্ষেত্রে এই কর-ছাড় প্রযোজ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে সেখানে পারফর্ম করা খেলোয়াড় ও শিল্পীদের কর দিতে হয়। যদিও কোচ ও সাপোর্ট স্টাফদের ক্ষেত্রে কিছু সুবিধা রয়েছে, যারা সাধারণত ফেডারেশন থেকে বেশি পারিশ্রমিক পান। ইতোমধ্যে ইউরোপের কিছু ফুটবল ফেডারেশন আগেই বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল। কর-সংক্রান্ত নতুন জটিলতা যুক্ত হওয়ায় ইউরোপের বাইরের দেশগুলোর উদ্বেগ আরো বেড়েছে।

ফিফা প্রতিটি দলের জন্য অপারেশনাল বাজেট ১৫ লাখ ডলার নির্ধারণ করলেও, দলসংখ্যা ৪৮-এ উন্নীত হওয়ায় দৈনিক ভাতা কমিয়ে সদস্যপ্রতি ৬০০ ডলারে নামানো হয়েছে, যা ২০২২ সালে ছিল ৮৫০ ডলার। অথচ যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ ও আবাসন ব্যয় বেড়েছে। তুলনায়, কাতার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৩২টি দলই করমুক্ত সুবিধা পেয়েছিল। কর পরামর্শক ওরিয়ানা মরিসনের মতে, ‘যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের করচুক্তি রয়েছে যেমন—ইংল্যান্ড বা স্পেন; তাদের খরচ তুলনামূলক কম হবে। কিন্তু কুরাসাও বা হাইতির মতো ছোট দেশগুলোর জন্য ব্যয় অনেক বেশি হয়ে দাঁড়াবে।’

এ পরিস্থিতিতে ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে তার আয়ের ওপর ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই দেশেই কর দিতে হতে পারে। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল কেবল যুক্তরাজ্যেই কর দেবেন। যদিও বড় ফেডারেশনগুলো কোচদের অতিরিক্ত কর বহন করতে পারে, ছোট দেশগুলোর জন্য এটি বড় চাপ হয়ে দাঁড়াবে। যুক্তরাষ্ট্রে করপোরেট করের হার ২১ শতাংশ এবং উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের জন্য আয়কর ৩৭ শতাংশ পর্যন্ত হওয়ায় এই ব্যয় আরো বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অর্থ স্থানীয় ফুটবলের উন্নয়নে ব্যয় না হয়ে যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যাবে।

এদিকে আয়োজক দেশ কানাডা ও মেক্সিকো সব দলের জন্য কর ছাড় দিয়েছে, ফলে যেসব দল তাদের ম্যাচ ওই দেশগুলোতে খেলবে, তাদের কর কম হবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে করহার ভিন্ন—ফ্লোরিডায় কোনো অঙ্গরাজ্য কর নেই, কিন্তু নিউ জার্সিতে ১০.৭৫ শতাংশ এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৩.৩ শতাংশ পর্যন্ত কর দিতে হয়।

ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য না করলেও সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করে কর-সংক্রান্ত সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে। সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপের প্রস্তুতির পাশাপাশি আর্থিক হিসাবনিকাশ এখন অনেক দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে যেসব দেশ সীমিত সম্পদ নিয়ে এই আসরে অংশ নিতে যাচ্ছে।

ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

দ্যুতি ছড়িয়েও ‘নিষিদ্ধ’ নেইমার

গ্রাভিনা-বুফনের পদত্যাগ, দায়িত্ব ছাড়লেন গাত্তুসোও

বাংলাদেশ-ভারত ফাইনালে মুখোমুখি আজ

দায়িত্ব ছাড়লেন ইতালির ফুটবল প্রধান গ্রাভিনা

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে ফ্রান্স, পেছাল আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল-বাংলাদেশ

আর্জেন্টিনা ও মেসির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

বিশ্বকাপ টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম, এক টিকিটই লক্ষাধিক টাকা

বিশ্বকাপ জিততে ফরাসিদের সামনে দুই ‘অভিশাপ’

মুসলিমবিদ্বেষী স্লোগান নিয়ে ক্ষোভ, কড়া বার্তা দিলেন ইয়ামাল