ইউরোপ সেরার মুকুট আবারও নিজেদের দখলে রাখল প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্সেনালের বিপক্ষে ১২০ মিনিটের লড়াই শেষে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতেছে ফরাসি ক্লাবটি। অন্যদিকে ২০০৬ সালের পর দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠেও অধরা থেকে গেল আর্সেনালের প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ট্রফি।
ম্যাচের শুরুটা ছিল আর্সেনালের স্বপ্নময়। প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের একটি ভুল কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যায় ইংলিশ ক্লাবটি। মার্কিনহোসের ক্লিয়ারেন্স ট্রোসার্ডের গায়ে লেগে কাই হাভার্টজের সামনে চলে এলে জার্মান মিডফিল্ডার একক প্রচেষ্টায় দুর্দান্ত গোল করে দলকে লিড এনে দেন।
গোলের পর আর্সেনাল বেশ সংগঠিত ফুটবল খেললেও দ্বিতীয়ার্ধে ক্রমেই চাপ বাড়াতে থাকে পিএসজি। প্রায় এক ঘণ্টা রক্ষণভাগ সামলে রাখার পর অবশেষে ভুল করে বসে আর্সেনাল। পেনাল্টি বক্সে খভিচা কভারাতসখেলিয়াকে ফাউল করলে ভিএআর পর্যালোচনার পর পেনাল্টি পায় পিএসজি। স্পট কিক থেকে উসমান দেম্বেলে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান।
নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময়েও আর কোনো গোল না হলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানেই শেষ পর্যন্ত হাসে পিএসজি।
টাইব্রেকারে পিএসজির হয়ে গনসালো রামোস, ভিক্টর গিয়োকেরেস, আশরাফ হাকিমি ও লুকাস বেরালদি সফলভাবে গোল করেন। আর্সেনালের হয়ে ডেকলান রাইস ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলি গোল পেলেও এবেরেচি এজের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় এবং গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েসের প্রচেষ্টা ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। যদিও নুনো মেন্দেসের শট ঠেকিয়ে আশা জাগিয়েছিলেন ডেভিড রায়া, তবে শেষ পর্যন্ত তা আর্সেনালকে বাঁচাতে পারেনি।
২২ বছর পর প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতে নতুন ইতিহাস গড়া আর্সেনাল ইউরোপের মঞ্চেও সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে চেয়েছিল। কিন্তু ফাইনালের মঞ্চে আবারও হতাশা সঙ্গী হলো তাদের।
অন্যদিকে পিএসজি নিজেদের আধিপত্য আরও একবার প্রতিষ্ঠা করল। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে রিয়াল মাদ্রিদের টানা তিন শিরোপার পর প্রথম দল হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা সফলভাবে ধরে রাখার কৃতিত্ব দেখিয়েছে তারা।
শুধু তাই নয়, ১৯৫৫ সালে ইউরোপিয়ান কাপ শুরুর পর ইতিহাসের মাত্র দশম দল হিসেবে টানা দুইবার ইউরোপ সেরা হওয়ার গৌরবও অর্জন করল প্যারিসের ক্লাবটি।