সুদানের আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে (আরএসএফ) অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ এবং বিদেশি যোদ্ধা ও ভাড়াটে সেনাদের সুদানে প্রবেশে সহায়তা করতে ইথিওপিয়া তাদের একটি সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছে সুদান সরকার।
শনিবার সুদানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, পশ্চিম ইথিওপিয়ার আসোসা সামরিক ঘাঁটি এখন বিদ্রোহী মিলিশিয়াদের কাছে অস্ত্র ও সরঞ্জাম সরবরাহের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশি যোদ্ধা ও ভাড়াটে সেনাদের সুদানে প্রবেশের পথও করে দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইথিওপিয়া বা আরএসএফের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে আধাসামরিক বাহিনীটিকে সহায়তা করার কিংবা নিজেদের ভূখণ্ড থেকে ড্রোন হামলা চালানোর সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে আদ্দিস আবাবা। দেশটি জানিয়েছে, তারা সুদানের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
সুদানের পূর্বাঞ্চলীয় শহর পোর্ট সুদানে দেশটিতে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে এসব অভিযোগ করেন মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি মুআবিয়া ওসমান খালিদ।
তিনি বলেন, ‘পশ্চিম ইথিওপিয়ার আসোসা ঘাঁটি বিদ্রোহী মিলিশিয়াদের অস্ত্র ও সরঞ্জাম সরবরাহের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি বিদেশি যোদ্ধা ও ভাড়াটে সেনাদের যাতায়াতেও সহায়তা করা হচ্ছে।’
খালিদ বলেন, আরো গুরুতর বিষয় হলো, ‘সুদানে ড্রোন হামলা চালানোর জন্য ইথিওপিয়ার সামরিক ঘাঁটি ও ভূখণ্ডকে উৎক্ষেপণস্থল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।’ সুদানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, তিনি এ কথা বলেছেন।
তিনি আরো বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এসব হামলার মাত্রা বেড়েছে। হামলায় বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র, পানির স্থাপনা, স্কুল, হাসপাতাল ও জ্বালানি স্টেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। এসব হামলায় শত শত মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন।
সুদানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি বলেন, ইথিওপিয়া থেকে আসা ‘নৃশংস আগ্রাসন’ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে সুদানে নিযুক্ত কূটনৈতিক মিশনগুলোকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে আহ্বান জানানোই বৈঠকের উদ্দেশ্য।
এর আগে সুদান চলমান যুদ্ধে ২০টিরও বেশি দেশের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলে।
খালিদ বলেন, সুদান সরকার বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানো এবং সুদান-ইথিওপিয়া সম্পর্কের ভারসাম্যহীনতা দূর করার চেষ্টা করছে। তবে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, কোনো আগ্রাসনের শিকার রাষ্ট্র হিসেবে যেকোনো হামলার জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার সুদানের রয়েছে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকেরা সুদানের ঐক্য, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি তাদের দেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন বলে জানান খালিদ। একই সঙ্গে যুদ্ধের অবসান এবং স্বাভাবিক জীবন ফিরে না আসা পর্যন্ত সুদানের জনগণের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তারা।
এর আগে বুধবার খালিদ অভিযোগ করেছিলেন, ইথিওপিয়া সুদানের বিরুদ্ধে ‘আগ্রাসন অব্যাহত রেখেছে’ এবং দেশটির কর্মকাণ্ড ‘বিপজ্জনক পর্যায়ে’ পৌঁছেছে।
সোমবার থেকে শুরু হওয়া ড্রোন হামলায় সুদানের খার্তুম রাজ্যের ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এই রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত দেশটির রাজধানী খার্তুম। এ ছাড়া মধ্য সুদানের আল-জাজিরা এবং পূর্বাঞ্চলের সেনার ও আল-কাদারিফ রাজ্যেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফের মধ্যে সংঘাত চলছে। আধাসামরিক বাহিনীটিকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে একীভূত করার প্রক্রিয়া নিয়ে মতবিরোধের জেরে এ সংঘাত শুরু হয়।
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, এ যুদ্ধে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং দেশজুড়ে দুর্ভিক্ষ ও মানবিক সংকট আরো তীব্র হয়েছে।