যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে পঞ্চম মেয়াদ নিশ্চিত করেছেন আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ। নিউইয়র্কের কুইন্স থেকে নির্বাচিত ৩৭ বছর বয়সি ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট ওকাসিও কর্টেজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তার রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী দিয়ামান্ত হাইসেনাজকে পরাজিত করেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফলে তার জয় নিশ্চিত হয়েছে।
নিউইয়র্কে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার ২০ মিনিটের মধ্যেই, যখন ৪৫ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছিল, তখন ওকাসিও-কর্টেজ প্রায় ৭৯ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে ছিলেন।
৪৪ বছর বয়সি রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী হাইসেনাজ শুরু থেকেই ওকাসিও কর্টেজের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেননি।
নিজের জনপ্রিয়তা নিয়ে এতটাই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন ওকাসিও কর্টেজ যে, নিউইয়র্কের ১৪তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে প্রচারে তাকে খুব বেশি সময় দিতে হয়নি। ব্রংকস ও কুইন্সের অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত এই নির্বাচনি এলাকার মধ্যে রয়েছে ‘কমি করিডর’ নামে পরিচিত কিছু এলাকাও। এসব এলাকার ভোটেই নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
নিজের নির্বাচনি এলাকায় প্রচারের পরিবর্তে নির্বাচনি মৌসুমের বড় একটি সময় তিনি ব্যয় করেছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যজুড়ে গভর্নর ক্যাথি হোকুলের পক্ষে প্রচারের পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচনে সমর্থন দিয়েছেন মিশিগানের সিনেট প্রার্থী ড. আবদুল আল-সাইয়েদ এবং ফ্লোরিডার সিনেট প্রার্থী অ্যাঞ্জি নিক্সনকে।
অন্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের প্রতি তার সমর্থন কেবল বক্তব্য-বিবৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনি কার্যক্রমে তিনি তিন লাখ ডলার অনুদান দিয়েছেন। পাশাপাশি মিশিগানে আবদুল আলল-সাইয়েদের নির্বাচনি তহবিলে স্থানান্তর করেছেন আরও ১০ লাখ ডলার।
অন্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের পক্ষে তার এই সক্রিয় প্রচার-প্রচারণার পেছনে বড় রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার ইঙ্গিতও দেখছেন অনেকে। ওকাসিও কর্টেজ প্রকাশ্যেই প্রেসিডেন্ট পদে অথবা সিনেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস
আরএ