শক্তিশালী মার্কিন ডলার ও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের উচ্চ সুদহারে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে।
মঙ্গলবার স্পট স্বর্ণের দাম ০.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১২৭ দশমিক ৮৭ ডলারে নেমেছে। তবে চলতি অক্টোবরে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় স্বর্ণের দামে বড় পতন হয়নি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত স্পট স্বর্ণের দাম ০.৩ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারের দাম সামান্য পরিবর্তিত হয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৫৫ দশমিক ৩০ ডলারে অবস্থান করছিল।
মার্কিন ডলার শক্তিশালী হওয়ায় অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারীদের কাছে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। এর পাশাপাশি সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ১০ ও ৩০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার ২৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এতে স্বর্ণের দামে চাপ তৈরি হয়েছে।
ক্যাপিটাল ডটকমের জ্যেষ্ঠ আর্থিক বাজার বিশ্লেষক কাইল রোডা বলেন, দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের বাজারের মৌলিক ভিত্তি এখনো শক্তিশালী। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি স্বর্ণের দামের পরবর্তী বড় প্রভাবক হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নিয়ে বাজারের প্রত্যাশায় বড় পরিবর্তন এলেও স্বর্ণের দামে নতুন উত্থান দেখা যেতে পারে।
গত শুক্রবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি প্রত্যাশার তুলনায় বেশি কমেছে। একই সঙ্গে আগের দুই মাসের নন-ফার্ম পেরোলের হিসাবও কমিয়ে সংশোধন করা হয়েছে। এর ফলে চলতি অক্টোবরে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে বাজারের প্রত্যাশা কমেছে।
তবে ডিসেম্বরের বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা এখনো ৮৭ শতাংশ বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। সিএমইর ফেডওয়াচ টুলে এ তথ্য উঠে এসেছে।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট রুপার দাম ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬০ দশমিক ৬৪ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দামও ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৭০৯ দশমিক ৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্যালাডিয়ামের দামও ০.৭ শতাংশ কমেছে।
এএম