বিদেশি কূটনীতিকদের ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। শনিবার দেশটি আবারও এই আহ্বান জানিয়ে বলেছে, কিয়েভে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত থাকবে।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, মে মাসেও একই ধরনের সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। তবে তা আমলে না নেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মন্ত্রণালয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ এবং রাশিয়ার বেসামরিক জনগণ ও অবকাঠামোর ওপর হামলার জবাবে রুশ বাহিনী কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ‘পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক হামলা’ চালিয়ে যাচ্ছে।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সতর্কবার্তা সত্ত্বেও কিয়েভে বেশ কয়েকটি বিদেশি দূতাবাস তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি বিদেশি কর্মকর্তারাও ইউক্রেন সফর অব্যাহত রেখেছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, রুশ সশস্ত্র বাহিনী ‘বড় আকারের পাল্টা হামলা’ চালিয়ে যাবে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবারও বিদেশি নাগরিক, বিশেষ করে কূটনৈতিক মিশনের কর্মকর্তাদের ইউক্রেনে অবস্থান না করা এবং দেশটিতে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে কেউ ইউক্রেনে অবস্থান করলে বা সেখানে ভ্রমণ করলে সম্ভাব্য যেকোনো ক্ষয়ক্ষতির দায় সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর বর্তাবে বলেও জানানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেন পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলা জোরদার করেছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে সরবরাহ ও রসদকেন্দ্র, বন্দর এবং জ্বালানি অবকাঠামো। উভয় পক্ষই বেসামরিক অবকাঠামোকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, হামলাগুলো সামরিক স্থাপনা অথবা সামরিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কিয়েভে হামলার মাত্রা আরো বেড়েছে। এর মধ্যে ডিনিপার নদীর ওপর থাকা কয়েকটি সেতুও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। শনিবার এর মধ্যে পিভনিচনি সেতুও হামলার শিকার হয়।
সূত্র: আনাদোলু
আরএ