যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নগরের মার্বেল হিল এলাকায় গাড়ির ভেতরে থাকা এক ব্যক্তিকে গুলি করেছেন দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার (আইসিই) এক কর্মকর্তা। ওই সময় গাড়িতে পাঁচ বছরের একটি শিশুও ছিল। শিশুটি শারীরিকভাবে আহত হয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছেন।
ঘটনাটিকে ‘বিবেকবর্জিত ও অত্যন্ত গুরুতর’ বলে অভিহিত করেছেন মামদানি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আইসিইর কর্মকর্তারা গাড়ির ভেতরে থাকা ওই ব্যক্তি ও শিশুটিকে ঘিরে ফেলেছিলেন। এরপর তারা একাধিকবার গুলি চালান।
মামদানি জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করেছেন। নিউইয়র্ক নগরে আইসিইর সব ধরনের অভিযান বন্ধ করার দাবি জানাবেন তিনি। মামদানি বলেন, ‘আইসিইর কর্মকর্তারা আমাদের জনপদে আতঙ্ক ছড়াবেন, আর আমি চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকব—এটা হতে পারে না।’
যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে ব্রঙ্কসে লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান চালাচ্ছিলেন আইসিইর কর্মকর্তারা। অপরাধে দণ্ডিত এক ডোমিনিকান নাগরিককে গ্রেপ্তার করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য।
ডিএইচএসের বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযানের সময় এক কর্মকর্তা আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছোড়েন। এতে ওই ব্যক্তি আহত হন। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি তখনো সচেতন ছিলেন। তাকে কাছের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আইসিইর কর্মকাণ্ড নিয়ে বাড়ছে সমালোচনা
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থাটি কয়েক মাস ধরেই তীব্র সমালোচনার মুখে রয়েছে। গত জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসে কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হন।
৭ জানুয়ারি আইসিইর এক কর্মকর্তার গুলিতে নিহত হন ৩৭ বছর বয়সি তিন সন্তানের মা রেনে নিকোল গুড। পরে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এক কর্মকর্তার গুলিতে নিহত হন ৩৭ বছর বয়সি নিবিড় পরিচর্যা বিভাগের (আইসিইউ) নার্স অ্যালেক্স প্রেটি।
গুড নিহত হওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাকে ‘দেশীয় সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দেন। তবে গুলির ঘটনার ভিডিও প্রকাশের পর তিনি এক কর্মকর্তাকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে করা দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকার তদন্তের দায়িত্ব থেকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সরিয়ে দেয়। নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্তের দাবিও প্রত্যাখ্যান করা হয়। এর মধ্যে মিনেসোটায় আরো কয়েক শ অভিবাসন কর্মকর্তা পাঠানো হয়। সেখানে তাদের মোট সংখ্যা দাঁড়ায় তিন হাজারে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের শত শত শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
অভিবাসন সংস্থাটির প্রতি জনমনে নেতিবাচক মনোভাব তৈরির জন্য সংবাদমাধ্যমের পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ পরিবেশনকে দায়ী করেছেন ট্রাম্প। গ্রেপ্তার করা ‘সহিংস অপরাধীদের’ বিষয়ে জনসমক্ষে আরো তথ্য তুলে ধরতে তিনি স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ ও আইসিইকে নির্দেশ দিয়েছেন।
বছরে ১০ লাখ মানুষকে বহিষ্কারের লক্ষ্য
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বছরে ১০ লাখ মানুষকে বহিষ্কারের লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে আইসিইকে। গত জানুয়ারির মধ্যে সংস্থাটির কর্মকর্তার সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে ২২ হাজার ছাড়িয়ে যায়।
বর্তমানে আইসিই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি অর্থ বরাদ্দ পাওয়া কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। গত বছর ট্রাম্প স্বাক্ষরিত একটি কর আইনের আওতায় চার বছরে সংস্থাটির জন্য প্রায় ৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
এএম