মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটে ভারতের ৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের সিরামিক উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় গুজরাট রাজ্যের মোরবিতে অবস্থিত বিশাল সিরামিক কারখানায় এখন নেই কোনো কর্মচাঞ্চল্য। কেবল অল্প কয়েকজন কর্মী তিন সপ্তাহ আগে তৈরি হওয়া শেষ চালানটি ট্রাকে তোলোর কাজ করছেন।
ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার কারণে জ্বালানি সংকটে বিশ্বজুড়ে যে শত শত টাইলস কারখানা তাদের কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে, এটি তার মধ্যে অন্যতম।
স্থানীয় উৎপাদক সমিতির তথ্যমতে, ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট গ্যাস সংকটের জেরে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুজরাটের মৃৎশিল্প কেন্দ্র মোরবির বেশিরভাগ কারখানা প্রায় এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে।
মোরবি ভারতের প্রায় ৮০ শতাংশ মৃৎশিল্প—প্রধানত টাইলস ও স্যানিটারিওয়্যার উৎপাদন করে এবং মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও ইউরোপে রপ্তানি করে।
উৎপাদকরা জানিয়েছেন, মৃৎশিল্প উৎপাদনের প্রধান জ্বালানি প্রোপেন ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় তারা কার্যক্রম বন্ধ রেখেছেন।
ভারতের মৃৎশিল্পের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার; যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মোরবি। এই অচলাবস্থার কারণে এই খাতের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৪ লাখ শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর হামলা চালায়। ইরানও পাল্টা জবাব দিচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে—যা ভারতের গ্যাস আমদানির একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।
কারখানা মালিক অমিত প্রজাপতি বিবিসিকে বলেন, ‘প্রায় ১০ জনের মধ্যে ৪ জন কারখানা মালিকই প্রোপেন ব্যবহার করেন। বাকিরা প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করেন।’
কারখানা মালিকরা জানান, তারা বেসরকারি সংস্থা থেকে প্রোপেন কেনেন, আর পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা প্রাকৃতিক গ্যাস একটি রাষ্ট্রীয় পরিবেশকের কাছ থেকে পান।
মোরবি সিরামিক উৎপাদক সমিতির উপদেষ্টা মুকেশ কুন্দারিয়া বিবিসিকে বলেন, ‘প্রায় ৫৫০টি কারখানা উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে, তবে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারকারী কয়েকটি কারখানা গ্যাস পাওয়া সাপেক্ষে চালু রয়েছে।’
সার্বিকভাবে মোরবির প্রায় ৮০ শতাংশ উৎপাদক-বিশেষ করে বড় কারখানাগুলো তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। কুন্দারিয়া জানান, এই অচলাবস্থা ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
মোরবির প্রায় তিন হাজার সিরামিক বিক্রেতা ও পরিবেশক বিদ্যমান মজুদের ওপর নির্ভর করছেন, কারণ নতুন সরবরাহ অন্তত এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ রয়েছে। ব্যবসায়ীরা সতর্ক করে বলছেন, এই অচলাবস্থা চলতে থাকলে অভ্যন্তরীণ ঘাটতি দেখা দিতে পারে এবং এপ্রিল মাস থেকে মজুদ কমতে শুরু করার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি/দ্য গার্ডিয়ান