বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন সংক্রান্ত যেকোনো আলোচনা বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো অর্থাৎ যৌথ নদী কমিশনের আওতাতেই পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত দ্বিসাপ্তাহিক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে অমীমাংসিত পানিসম্পদ ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল।
ব্রিফিংয়ে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, নদী ও পানিসম্পদ সংক্রান্ত যেকোনো বিষয় যৌথ নদী কমিশনের আওতায় নির্ধারিত হয় এবং সংশ্লিষ্ট আলোচনায় উভয় পক্ষের বিষয়গুলো সেখানেই কারিগরি পর্যায়ে পর্যালোচনা করা হয়ে থাকে।
এদিকে, প্রায় তিন বছরের বিরতির পর নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য সংক্রান্ত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজি) বৈঠক। যুগ্ম সচিব পর্যায়ের এই বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এজেন্ডা, বিদ্যমান বিভিন্ন বাণিজ্য বাধা নিরসন এবং সীমান্ত বাণিজ্য স্বাভাবিক রাখার নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই একটি সম্মানজনক ও টেকসই সমাধানে পৌঁছাতে উভয় দেশের কূটনৈতিক ও কারিগরি পর্যায়ে নানা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যেই বাণিজ্য সংক্রান্ত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের আলোচনা পুনরায় সচল হওয়াকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা।