যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ আজ সোমবার শেষ হচ্ছে। তবে এটি বাড়ানোর বিষয়ে এখনো কোনো সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
গত ১৭ জুন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই চুক্তিতে সই করেন। এতে ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর কথা বলা হয়েছিল, প্রয়োজনে উভয় পক্ষের সম্মতিতে সময় বাড়ানোর সুযোগও রাখা হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশ সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করবে। যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং দেশটির পুনর্গঠনে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের প্যাকেজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। অন্যদিকে ইরান হরমুজ প্রণালির মাইন অপসারণ এবং জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে সম্মত হয়।
তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এদিকে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌপথ তৈরিতে ওমানের সঙ্গে আলাদা সমঝোতার চেষ্টা করছে তেহরান। তবে ইরানের দাবি, এর জন্য আগে একটি রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে হবে।
ফলে সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রাক্কালে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা/জিও নিউজ
আরএ