হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরো জোরদার করেছে ইরান। যুদ্ধ বন্ধে অনিশ্চয়তা এবং শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার কোনো লক্ষণ না থাকায় কৌশলগত এই জলপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে তেহরান। এরই মধ্যে তারা এই প্রণালিতে দুটি জাহাজ জব্দ করেছে।
নতুন করে সহিংসতার হুমকি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর মঙ্গলবার ট্রাম্প একতরফাভাবে তার অবস্থান থেকে সরে এসে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। বলেন, দুই মাস ধরে চলা এই যুদ্ধের অবসানের জন্য শান্তি আলোচনায় ইরানের একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াবে।
তবে ইরানি কর্মকর্তারা যুদ্ধবিরতির কোনো মেয়াদ বৃদ্ধিতে সম্মত হয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করেননি। সেই সঙ্গে সমুদ্রপথে ইরানের বাণিজ্যের ওপর মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ বজায় রাখার বিষয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। নৌ অবরোধকে যুদ্ধকালীন পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছে ইরান। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এবং প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, অবরোধ তুলে নেওয়া হলেই কেবল পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি অর্থপূর্ণ হবে।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ শেষ করার ক্ষেত্রে সামান্যই অগ্রগতি হয়েছে। এর ফলে উভয় পক্ষই এক অচলাবস্থায় রয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এখনো কার্যত বন্ধ, যা বিশ্বজুড়ে অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে।
জাহাজ কোম্পানি এবং ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামিক বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী দুটি জাহাজ জব্দ করে সেগুলোকে ইরানের উপকূলে নিয়ে এসেছে।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র অনুসারে, একই এলাকায় লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী তৃতীয় একটি কন্টেইনার জাহাজে গুলি চালানো হলেও সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এবং পুনরায় যাত্রা শুরু করেছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী বুধবার জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অবরোধের অংশ হিসেবে তারা এ পর্যন্ত ৩০টিরও বেশি জাহাজকে ঘুরিয়ে দিয়েছে বা বন্দরে ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছে। উপসাগরের অনেক দূরে, মার্কিন সামরিক বাহিনী এশীয় জলসীমায় অন্তত তিনটি ইরানি পতাকাবাহী ট্যাংকার আটক করেছে বলে সূত্র জানিয়েছে। সেগুলোকে ভারত, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কার নিকটবর্তী অবস্থান থেকে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
আরএ