হোম > বিশ্ব

ইরানের হামলায় তেল আবিবে ক্ষতিগ্রস্ত ৪০ ভবন, আমিরাত লণ্ডভণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের ২৭ ঘাঁটিতে হামলা

আমার দেশ অনলাইন

ছবি: সংগৃহীত

শেষ পর্যন্ত আলোচনা ভেঙে ইরানে আগ্রাসন শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। গত শুক্রবার ইরানের ৩১টি প্রদেশের ২৪টিতেই হামলা চালিয়েছে তারা। আমেরিকা-ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও বেসামরিক নেতা নিহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুসারে হামলায় অন্তত ২০১ জন নিহত হন।

আমেরিকা-ইসরাইলের প্রচণ্ড এ হামলায় না দমে জোরালোভাবে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার বিভিন্ন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করছে ইরানি সামরিক বাহিনী।

ইসরাইলের সংবাদমাধ্যম হারেৎজের খবরে বলা হয়, ইরানি হামলায় তেল আবিবে অন্তত ৪০টি ভবন বিধ্বস্ত হয়েছে। এর জেরে ওইসব ভবনের দুই শতাধিক বাসিন্দাকে সরিয়ে নিয়ে তিনটি হোটেলে রাখা হয়েছে।

এছাড়া ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলায় ইসরাইলের বাইত শাম্মাস শহরে ৯ জনের নিহতের তথ্য দিয়েছে ইসরাইলি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডম। হামলায় আরো ২৭ জন আহত হন।

এদিকে আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় দ্বিতীয় দিনের মতো রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কাতারসহ উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত হানছে। কাতারের দোহায় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কয়েক দফা বিস্ফোরণে পুরো শহর কেঁপে উঠেছে এবং শহরের দক্ষিণ থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডুলী উড়তে দেখা গেছে। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্য কেন্দ্র দুবাইও বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠেছে। এছাড়া জাবাল আলি বন্দর থেকে ঘন ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।

আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, শুক্রবার থেকে দেশটিতে ইরানের নিক্ষিপ্ত ১৬৫টি ব্যালিস্টিক মিসাইল শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে ১৫২টি মিসাইল ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া ইরানি ৫৪১টি ড্রোন শনাক্ত করেছে ইরান। এর মধ্যে ৫০৬টি প্রতিহত করা হয়েছে।

ইরানের হামলায় অন্তত তিন প্রবাসী নিহত ও আরো ৫৮ জন আহত হয়েছেন বলে মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়।

এদিকে রোববার ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) পক্ষ থেকে রোববার এক বিবৃতিতে বলা হয়, তারা মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার ২৭টি ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এছাড়া ইসরাইলের তেল নফ বিমানঘাঁটি ও তেল আবিবে হাকিরইয়া সেনা কমান্ড হেডকোয়ার্টার্সসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা স্থাপনায় আঘাত করেছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ইরানি সামরিক বাহিনী পাল্টা অনুশোচনা সৃষ্টিকারী আঘাতের মাধ্যমে ভিন্নমাত্রার কঠিন প্রতিশোধ নেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এসব হামলায় কী পরিমাণে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ঘাঁটিতে হামলার তথ্য স্বীকার করলেও এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে।

এর আগে গত ৬ ফেব্রুয়ারি ওমানের রাজধানী মাস্কাটে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিদলের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই পক্ষে তৃতীয় দফায় সংলাপ হয়। আলোচনা অব্যাহত রাখার কথা থাকলেও ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তা উপেক্ষা করে ইরানে আগ্রাসন শুরু করে আমেরিকা ও ইসরাইল।

যুক্তরাষ্ট্রের ৬১% মানুষ ইরানে হামলাকে ভুল সিদ্ধান্ত মনে করেন

মে দিবসে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ও অর্থনৈতিক বয়কট কর্মসূচি

যুদ্ধ ক্ষমতা আইনে আপত্তি ট্রাম্পের, বললেন সমালোচকরা দেশপ্রেমিক নয়

লেবাননের প্রেসিডেন্ট ও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

ইরান যুদ্ধে ড্রোন-বিমান ও রাডারসহ যেসব সামরিক অস্ত্র হারাল যুক্তরাষ্ট্র

মমতাকে সরাতে মোদি-শাহের নজিরবিহীন নির্বাচন

ইরানের হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে বিপর্যস্ত ১৬ মার্কিন ঘাঁটি

গাজা শিশুদের শিল্পকর্মে যুদ্ধের ছাপ, এক খালি ক্যানভাসে হারানো স্বপ্ন

যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের কাছে নতুন প্রস্তাব ইরানের

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সুদানে ত্রাণ ব্যয় দ্বিগুণ, সরবরাহে বিলম্ব: জাতিসংঘ