কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লাভাটনিক স্কুল অব গভর্নমেন্টে ‘ডিস্টিংগুইশড ফেলো’ হিসেবে যোগ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রতিষ্ঠানটির ‘ওয়ার্ল্ড লিডার্স সার্কেল’-এর সদস্য হয়েছেন। শুক্রবার এক ঘোষণায় এ তথ্য জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর এটিই তার প্রথম বড় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক নিয়োগ।
ব্লাভাটনিক স্কুল জানিয়েছে, ওয়ার্ল্ড লিডার্স সার্কেল সাবেক সরকারপ্রধানদের একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক। বিশ্বজুড়ে সুশাসনের উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারকদের প্রশিক্ষণে অভিজ্ঞ নেতাদের যুক্ত করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
এ উদ্যোগের অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন এবং যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। বৈশ্বিক বিভিন্ন উদীয়মান চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করতে নিয়মিত বৈঠক করেন তারা।
ব্লাভাটনিক স্কুলের ডিন অধ্যাপক নাইরি উডস বলেন, ‘জাস্টিন ট্রুডোকে ডিস্টিংগুইশড ফেলো ও ওয়ার্ল্ড লিডার্স সার্কেলের সদস্য হিসেবে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা আনন্দিত। এটি এমন একটি মঞ্চ, যেখানে নেতারা ভাবনা বিনিময় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ পান।’
তিনি আরো বলেন, এক দশকের জনসেবার অভিজ্ঞতা নিয়ে এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন ট্রুডো।
২০১৫ সালে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়া ট্রুডো ২০২৫ সালে পদত্যাগ করেন। তার ভাষ্য, দায়িত্ব পালনকালে বিশ্বে ভূরাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে।
ট্রুডো বলেন, পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দায়িত্বশীল নেতৃত্ব প্রয়োজন। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠনে নতুন করে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়া জরুরি।
নতুন দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো, অন্য নেতাদের সঙ্গে দৃষ্টিভঙ্গি বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ সরকার ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছি। কীভাবে সরকারগুলো পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে সবার জন্য আরো আশাবাদী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে, তা নিয়ে কাজ করতে চাই।’
সূত্র: ইয়েনি শাফাক
এমএমআর