হোম > বিশ্ব

১৯ মাসের মধ্যে ওয়াল স্ট্রিটে সবচেয়ে বড় দরপতন, চাপে প্রযুক্তি খাতের শেয়ার

আমার দেশ অনলাইন

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর ওয়াল স্ট্রিটে যে শক্তিশালী উত্থান দেখা গিয়েছিল, তা দ্রুতই বড় ধরনের দরপতনে রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সেমিকন্ডাক্টর খাতের শেয়ারে ব্যাপক বিক্রির চাপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শেয়ারবাজার সূচকগুলোতে বড় পতন হয়েছে।

৫ নভেম্বর নাসডাক কম্পোজিট সূচক ৫ দশমিক ৫২ শতাংশ কমেছে, যা ১৯ মাসের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ পতন। একই দিনে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক কমেছে ৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং ডাও জোন্স ৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ। নাসডাক ১০০ সূচকের পতন হয়েছে ৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ, যা ২০২০ সালের করোনা মহামারিজনিত ধসের পর সর্বোচ্চ।

এআই ও চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারে সবচেয়ে বেশি ধস নামে। এএমডির শেয়ারদর ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ, মাইক্রনের ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং এনভিডিয়ার ৯ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। স্মার্টফোন চিপ বিক্রির পূর্বাভাস হতাশাজনক হওয়ায় কোয়ালকমের শেয়ারও ৯ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে।

এআই অবকাঠামো নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনি বিজয়ের পর এআই ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দলটির কয়েকজন প্রার্থী ডেটা সেন্টারের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার, পরিবেশগত প্রভাব এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যয় বৃদ্ধির বিরোধিতা করেছেন।

এতে এআই অবকাঠামো নির্মাণে নিয়ন্ত্রণ, বিধিনিষেধ কিংবা প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে চিপ নির্মাতা থেকে শুরু করে সার্ভার ও ডেটা সেন্টার-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

মুনাফা তুলে নিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা

৪ নভেম্বর নির্বাচনি ফল প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় উত্থান ঘটে। ওই দিন ডাও জোন্স সূচক লেনদেনের শুরুতে এক হাজার পয়েন্টের বেশি বেড়েছিল। তবে পরদিন বাজার খুলতেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার বিক্রির প্রবণতা বাড়ে।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে ও পরের উত্থানে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ মুনাফা তুলে নিতে শুরু করেন। বিশেষ করে এআই ও সেমিকন্ডাক্টর খাতের অতিমূল্যায়িত শেয়ার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় বিক্রির চাপ ছড়িয়ে পড়ে পুরো বাজারে।

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে

২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। এর মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির একক নিয়ন্ত্রণের অবসান হয়েছে।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং প্রশাসনের নীতির প্রতি অসন্তোষকে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিনির্ধারণে বাধা সৃষ্টি, তদন্ত পরিচালনা এবং আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটরা এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

সব মিলিয়ে, নির্বাচনের পর রাজনৈতিক স্বস্তিতে বাজারে যে উত্থান তৈরি হয়েছিল, এআই খাতের অতিমূল্যায়ন, অবকাঠামো বিনিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতায় তা দ্রুতই বড় দরপতনে রূপ নিয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

আরএ

বিল ক্লিনটনের প্রশংসা পাওয়ার ১৯ বছর পর রেকর্ড গড়লেন সেই তরুণ

সরকার গঠনের পথে আইজেনকট, সমর্থন জানালেন ৬৭ আইনপ্রণেতা

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হবেন কে, জানা যাবে আজ

ট্রাম্পের ছায়ায় থেকেও নিজস্ব রাজনৈতিক বলয় তৈরি করছেন ভ্যান্স

ওভাল অফিসকে জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ ঘোষণা করলেন ট্রাম্প

ইসলামবিদ্বেষের রাজনীতিকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন আল-সাইয়েদ

ইরানে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে নিরাপত্তা দলের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মামদানির সমর্থিত ৩ প্রার্থীর জয়

মুরসি পরবর্তী মিসরকে কেমন রাষ্ট্র হিসেবে গড়ছেন আল-সিসি

ইরানে হামলা করতে প্রস্তুত মার্কিন বাহিনী, ট্রাম্পের নির্দেশের অপেক্ষা