কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার যত বাড়ছে, কর্মক্ষেত্রে অফিসে সরাসরি কাজ করার গুরুত্বও নতুন করে সামনে আসছে। প্রযুক্তি এখন অনেক নিয়মিত ও জ্ঞানভিত্তিক কাজ দ্রুত করে দিতে পারছে। ফলে ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা থেকে শেখা, মেন্টরিং এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
করোনা মহামারির পর ঘরে বসে কাজ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) বা রিমোট ওয়ার্কিং ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়েছে। এতে যাতায়াতের সময় ও খরচ কমেছে এবং কর্মীরা নিজেদের সময়ের ওপর বেশি নিয়ন্ত্রণ পেয়েছেন। তবে দীর্ঘ সময় পুরোপুরি দূর থেকে কাজ করার ফলে বিশেষ করে নতুন কর্মীদের বাস্তব কর্মপরিবেশ থেকে শেখার সুযোগ কমে যেতে পারে।
অফিসে কাজ করার অন্যতম সুবিধা হলো অভিজ্ঞ সহকর্মীদের কাছ থেকে সরাসরি শেখার সুযোগ। কর্মীরা শুধু নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করেই অভিজ্ঞতা অর্জন করেন না। সহকর্মীদের কাজের ধরন, সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি, প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কীভাবে আচরণ করতে হয়—এসবও কর্মপরিবেশের মধ্য দিয়ে শেখা যায়।
এআই অনেক ক্ষেত্রে নতুন কর্মীদের করা নিয়মিত ও অপেক্ষাকৃত সহজ কাজগুলোও করে দিতে পারে। এতে কাজের চাপ কমলেও অভিজ্ঞতা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ এসব ছোট ও সাধারণ কাজের মধ্য দিয়েই অনেক কর্মী ধীরে ধীরে জটিল দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করেন।
এ অবস্থাকে অভিজ্ঞতার ঘাটতির সঙ্গে তুলনা করা যায়। এআই যদি কর্মজীবনের শুরুতেই অনেক ধরনের কাজ নিয়ে নেয়, তাহলে নতুন কর্মীরা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। এর ফলে ভবিষ্যতে দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মী তৈরি করাও কঠিন হতে পারে।
অফিসে সরাসরি উপস্থিত থাকার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সম্পর্ক ও আস্থা তৈরি করা। নিয়মিত মুখোমুখি যোগাযোগের মাধ্যমে সহকর্মীরা একে অন্যের কাজের ধরন ও সক্ষমতা সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে পারেন। একই সঙ্গে মতবিনিময়, অনানুষ্ঠানিক আলোচনা এবং যৌথভাবে সমস্যা সমাধানের সুযোগ তৈরি হয়।
তবে রিমোট ওয়ার্কিংয়ের সুবিধাও রয়েছে। ঘরে বসে কাজ করলে যাতায়াতের সময় ও খরচ কমে। পরিবারকে সময় দেওয়া সহজ হয় এবং অনেক কর্মী নিজের সুবিধামতো পরিবেশে কাজ করতে পারেন। বিশেষ করে যাদের জন্য নিয়মিত অফিসে যাওয়া কঠিন, তাদের জন্য এ ধরনের কর্মব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ।
তাই ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে অফিস ও রিমোট ওয়ার্কিংয়ের মধ্যে একটিকে পুরোপুরি বাদ দেওয়ার পরিবর্তে প্রয়োজন অনুযায়ী দুটির সমন্বয় করা যেতে পারে। এআই নিয়মিত ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের বড় অংশ সামলালেও মানুষের বিচারবোধ, নেতৃত্ব, সম্পর্ক তৈরি, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজন থাকবে।
প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে কর্মক্ষেত্রের ধরনও বদলাবে। তবে মানুষের কাছ থেকে শেখা এবং বাস্তব কর্মপরিবেশে অভিজ্ঞতা অর্জনের প্রয়োজন শেষ হয়ে যাবে না। বরং এআইয়ের ব্যবহার যত বাড়বে, মানুষের মধ্যে সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য অফিসের ভূমিকা তত বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।