মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত সহযোগীদের একজন ৩৫ বছর বয়সি নাটালি হার্প। সাম্প্রতিক সময়ে নাটালি হার্পের মতো অন্য কেউ হোয়াইট হাউসে এতটা জায়গা করে নিতে পারেননি।
ট্রাম্পের নিজ সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্ট টাইপ করা, সংবাদ ও তথ্য প্রিন্ট করে দেওয়া এবং সফরে তার সঙ্গে থাকা—এসব গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
সম্প্রতি ট্রাম্পের সঙ্গে হার্পের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ প্রশ্ন তোলায় তাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। চলতি সপ্তাহে ডেমোক্রেটিক দলের সিনেটর জন অসফ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে একটি বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি নাটালির নামও উল্লেখ করেন।
কাতারের আমিরের দেওয়া উপহার, অরক্ষিত উড়ন্ত প্রাসাদে নাটালির সঙ্গে ট্রাম্পের ভ্রমণের সমালোচনা করেন জন অসফ। মূলত গত জুলাইয়ে ইরানের হুমকির কারণে প্রেসিডেন্ট যখন একটি ছোট উড়োজাহাজে চড়ে গোপনে তুরস্ক ত্যাগ করেন, তখন খুব ছোট একদল সহযোগীর সঙ্গে নাটালিও যুক্ত ছিলেন।
ক্যালিফোর্নিয়ায় জন্ম নেওয়া এবং রক্ষণশীল খ্রিষ্টান পরিবারে বেড়ে ওঠা হার্প অনেকটা নাটকীয়ভাবেই হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করেন। ট্রাম্প তার জীবন বাঁচিয়েছেন—এমন দাবি করে তিনি প্রথমে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে কিছু রোগীকে পরীক্ষামূলক চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ বাড়ানো হয়। হার্প তার হাড়ের ক্যানসারের চিকিৎসা নেন। এই অভিজ্ঞতার কথা প্রচার করে তিনি ট্রাম্পের ‘মেইক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ স্লোগানে রিপাবলিকান পার্টিতে জনপ্রিয়তা পান। পরে তিনি ২০২০ সালে ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনে প্রচারণার একটি উপদেষ্টা বোর্ডে নিয়োগ পান।
এরপর ২০২২ সালে ট্রাম্পের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনি প্রচারেও যোগ দেন হার্প।
কতটা ক্ষমতাবান নাটালি
হোয়াইট হাউসে নাটালি হার্পের আনুষ্ঠানিক পদবি ‘প্রেসিডেন্টের এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট’। সাধারণত এই পদ তুলনামূলক নিচের সারির হলেও গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত। সময়সূচি ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগের সমন্বয় এবং নানা ধরনের গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কাজ এর অন্তর্ভুক্ত।
তবে বিভিন্ন সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, নাটালি এই পদের প্রচলিত ধারণাই যেন বদলে দিয়েছেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের এমন কর্মকর্তাদের—যেমন ম্যাডেলিন ওয়েস্টারহাউটের তুলনায় তার প্রকাশ্য উপস্থিতি অনেক বেশি।
নাটালির পদবি ‘এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট’ হলেও তার প্রভাব সাধারণ পদমর্যাদার চেয়ে অনেক বেশি বলে মনে করা হয়। ট্রাম্পের কাছে কোন তথ্য পৌঁছাবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী পোস্ট হবে—এসব ক্ষেত্রে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
ট্রাম্পের পাশে প্রায় সব সময় থাকার কারণে হোয়াইট হাউসের ভেতরে তাকে ‘হিউম্যান প্রিন্টার’, ‘গেটকিপার’ এবং ‘কমফোর্ট ব্ল্যাঙ্কেট’ বলা হয়। সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যানের ভাষায়, হার্প ট্রাম্পের জন্য অনেকটা ‘সান্ত্বনার আশ্রয়’।
সূত্র: বিবিসি
আরএ