ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নেওয়ার পর দেশটিকে পুনর্গঠনের অঙ্গীকার করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর সেই অঙ্গীকার পুরণে যুক্তরাষ্ট্র কতটা আগ্রহী তা প্রমাণ করার সময় এসেছে।
গত জানুয়ারিতে নাটকীয়ভাবে মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই দেশটিকে ‘পরিচালনা’ করবে।
সেই সময়ে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছিলেন, ভেনেজুয়েলার জন্য হোয়াইট হাউসের একটি তিন-ধাপের পরিকল্পনা রয়েছে। পরিকল্পনা হলো স্থিতিশীলতা, পুনরুদ্ধার ও রূপান্তর।
তারপর থেকে, ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হস্তক্ষেপের সাফল্য এবং ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে তার অংশীদারিত্বের কথা প্রচার করে আসছেন।
ভেনেজুয়েলায় মারাত্মক ভূমিকম্প আঘাত হানার ঠিক একদিন আগে, পেনসিলভানিয়ার এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেছিলেন, দেশটি ‘খুব ভালো করছে’।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব ভালোভাবেই মানিয়ে নিচ্ছি। যারা এটি চালাচ্ছে, তারা আমাদেরই লোক, তারা অসাধারণ মানুষ। দেশটির জনগণ সুখী। তাদের মুখে হাসি। তারা দুর্দশাগ্রস্ত ছিল, তারা ক্ষুধার্ত ছিল।’
ট্রাম্প আরো বলেছেন, ‘এখন আমরা ভেনিজুয়েলা থেকে প্রচুর অর্থ উপার্জন করছি এবং ভেনিজুয়েলা খুব ভালো করছে।’
তবে ট্রাম্পের বক্তব্য ভেনেজুয়েলার বাস্তবতার থেকে ভিন্ন। দেশটির প্রায় ২ দশমিক ৮ কোটি মানুষ উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, কম মজুরি, সেন্সরশিপ ও এক গভীর মানবিক সংকটের সঙ্গে ক্রমাগত সংগ্রাম করে চলেছে।
কিন্তু বুধবারের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় সম্ভবত দেশটিকে আরো অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ফেলে দেবে।
বুধবার গভীর রাতে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করতে প্রস্তুত।
পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘আমি আমাদের সরকারের সকল সংস্থাকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে নির্দেশ দিয়েছি। আমরা আমাদের নতুন এবং মহান বন্ধুদের পাশে থাকব।’
এই প্রতিশ্রুতি কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে—এবং যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলাকে তার প্রতিশ্রুত স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সাহায্য করবে কি না, তা দেখার বিষয়।
সূত্র: সিএনএন
আরএ