উত্তর কোরিয়ায় সাম্প্রতিক একটি ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ পিয়ংইয়ং আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানালেও সিউল সামরিক বা সরকারি সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, উত্তর কোরিয়া অভিযোগ করেছে— চলতি মাসে দক্ষিণ কোরিয়া তাদের অভিন্ন সীমান্ত পেরিয়ে কায়েসং শহরে একটি ড্রোন পাঠায়। পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়েছে এবং এর ধ্বংসাবশেষের ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে।
এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের বোন ও প্রভাবশালী নেত্রী কিম ইয়ো জং দায়ীদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। তবে দক্ষিণ কোরিয়া জানায়, এ ধরনের কোনো অভিযান তাদের সামরিক বাহিনী বা সরকার পরিচালনা করেনি— যদিও বেসামরিক কারও জড়িত থাকার সম্ভাবনা তারা উড়িয়ে দিচ্ছে না।
দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা উই সুং-ল্যাক বলেন, জাপানের নারা শহরে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের নেতাদের শীর্ষ বৈঠকের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান— বিষয়টি বেসামরিক খাত থেকে ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দোষ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, উত্তর কোরিয়া এর আগেও দক্ষিণ কোরিয়ায় ড্রোন পাঠিয়েছে— এমনকি কিছু ড্রোন ব্লু হাউস ও ইয়ংসান পর্যন্ত পৌঁছেছিল। এসব ঘটনাও অস্ত্রবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ১৯৫০-৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধ শান্তিচুক্তি নয়, অস্ত্রবিরতির মাধ্যমে শেষ হওয়ায় দুই কোরিয়া এখনও কারিগরি অর্থে যুদ্ধে রয়েছে।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনায় সামরিক ও পুলিশের যৌথ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কোনো বেসামরিক ব্যক্তির জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে তা কোরীয় উপদ্বীপের শান্তির জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে বিবেচিত হবে।
এসআর