সিএনএনের প্রতিবেদন
গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে মার্কিন বাহিনী কিউবার উপকূলে গোয়েন্দা বিমানের চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য বিশ্লেষণের বরাত দিয়ে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ৪ ফেব্রুয়ারির পর থেকে মার্কিন নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী বিমান এবং ড্রোন ব্যবহার করে এ ধরনের অন্তত ২৫টি সামরিক নজরদারি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। ফ্লাইটগুলোর বেশির ভাগই হাভানা এবং সান্তিয়াগো দে কিউবার কাছাকাছি নজরদারি চালায়। কয়েকটি উপকূল থেকে ৪০ মাইলের মধ্যে চলে যায়।
বেশির ভাগ ফ্লাইটই পি-৮এ পোসাইডন সামুদ্রিক টহল বিমানের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে, যা বিশেষভাবে নজরদারি ও অনুসন্ধানের জন্য তৈরি। তবে কয়েকটি আরসি-১৩৫ভি রিভেট জয়েন্ট দ্বারা পরিচালিত হয়, এগুলো বিশেষভাবে সংকেতভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের জন্য তৈরি। এছাড়া বেশ কয়েকটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন উচ্চ-উচ্চতায় পর্যবেক্ষণকারী ড্রোনও ব্যবহার করা হয়েছে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেব্রুয়ারির আগে এই অঞ্চলে এ ধরনের ফ্লাইট তেমন একটা চলাচল করেনি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২৯ জানুয়ারি একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন, যার মাধ্যমে কিউবায় তেল সরবরাহকারী দেশগুলো থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের অনুমতি দেওয়া হয়। কিউবা সরকারের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি সম্পদ অবরোধের মাধ্যমে তাদের অর্থনীতিকে ধ্বংস করতে চাইছে।
তবে পেন্টাগন এই তথ্যগুলো সম্পর্কে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
ভেনিজুয়েলা ও ইরান উভয় দেশেই মার্কিন সামরিক অভিযানের আগ দিয়ে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। হামলার আগে উভয় দেশ নিয়েই ট্রাম্প প্রশাসন নানা ধরনের মন্তব্য করছিল এবং প্রকাশ্যে নজরদারি ফ্লাইটের সংখ্যাও বেড়ে গিয়েছিল।
সেপ্টেম্বর থেকে ভেনিজুয়েলার উপকূলের কাছে প্রকাশ্যে নজরদারি ফ্লাইট শুরু হয়, যা অক্টোবর ও নভেম্বরে সাময়িক বিরতিসহ কারাকাস থেকে মাদুরোকে তুলে আনার আগের দিনগুলো পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।
ইরানেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যায়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার আগে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহকারী বিমান এবং ড্রোনের এক বিশাল বহর ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলে প্রকাশ্যে নজরদারি চালায়। একই ধরনের বিমান চলাচল সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কিউবার কাছেও দেখা গেছে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই বিমানগুলো নিজেদের উপস্থিতি গোপন করতে সক্ষম, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তা করেনি। এতে থেকে প্রশ্ন ওঠে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবেই তার শত্রুদের কাছে এই বিমানগুলোর উপস্থিতির সংকেত দিচ্ছে কি না।
মার্কিন সামরিক বাহিনী বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সংকেত দেওয়া সুস্পষ্টভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হোক বা না হোক, এই বার্তাটি কিউবান কর্মকর্তাদের জন্য অবশ্যই উদ্বেগজনক।
আরএ