মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত গাজা শান্তি পরিকল্পনা, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে নিয়ন্ত্রণহীন করার পদক্ষেপের একটি মুখোশ বা আড়াল হিসাবে ব্যবহার হতে পারে। যেখানে ফিলিস্তিনিদের শাসনের অধিকার হারানের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বৃহস্পতিবার এমন উদ্বেগের কথা জানিয়েছেনে।
তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা পরিকল্পনাটি ১৩ ভোটে গৃহীত হলেও রাশিয়া ও চীন ভোটদানে বিরত থাকে।
জাখারোভা বলেন, এই সিদ্ধান্ত যেন ফিলিস্তিনিদের স্ব-শাসনের অধিকার, ইসরাইলের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ওপর চূড়ান্ত প্রভাব না ফেলে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় গাজা পরিচালনার জন্য একটি ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের কথা রয়েছে, যার প্রধান হবেন ট্রাম্প, এবং এতে বিশ্বের অন্যান্য প্রভাবশালী নেতারা অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারেন। এই বোর্ড একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীল বাহিনী মোতায়েনের ক্ষমতা পাবে, যা ইসরায়েল ও মিশরের সঙ্গে সমন্বয় করে গাজায় হামাসসহ অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্রীকরণের কাজ করবে।
তিনি সমালোচনা করে বলেন, পরিকল্পনায় ফিলিস্তিনি জাতীয় প্রশাসনকে শাসনব্যবস্থা বা ভবিষ্যৎ নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এছাড়া ইসরাইলের দায়িত্ব—যেমন দখলকৃত ভূমি সংযুক্ত না করা ও সেনা প্রত্যাহার—নথিভুক্ত নয়। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও সচিবালয়কেও নতুন কাঠামোর তদারকি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা জাখারোভা ‘আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী’ বলে উল্লেখ করেন।
রাশিয়া কেন ভোটদানে বিরত ছিল, সে সম্পর্কে তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি নেতৃত্ব এবং সংশ্লিষ্ট আরব-মুসলিম দেশগুলোর অবস্থানকে সম্মান জানানো হয়েছে এবং গাজায় সহিংসতার পুনরাবৃত্তি এড়াতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্র ছয়বার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবিত খসড়া ভেটো না দিলে গাজার জনগণের দুর্ভোগ অনেক আগেই কমতে পারত।