দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র নাউরু এবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন নামে পরিচিত হতে যাচ্ছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডেভিড আদিয়াং ঘোষণা দিয়েছেন, এখন থেকে নাউরুর সরকারি পরিচয় হবে ‘নাওয়েরো’। ঔপনিবেশিক প্রভাব থেকে বেরিয়ে নিজেদের ঐতিহ্য ও স্থানীয় পরিচয়কে সামনে আনতেই এই নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট আদিয়াং বলেন, একটি জাতির ইতিহাসে এমন কিছু সময় আসে, যখন মানুষকে নিজেদের প্রকৃত পরিচয় নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিতে হয়। নাওয়েরোর জন্য বর্তমান সময়টিও তেমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
প্রায় আট বর্গমাইল আয়তনের এই দ্বীপদেশটিতে বসবাস করেন প্রায় ১২ হাজার মানুষ। দীর্ঘ সময় যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও জার্মানির ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে থাকার পর ১৯৬৮ সালে স্বাধীনতা লাভ করে দেশটি।
স্বাধীনতার পরও বিশ্বজুড়ে দেশটি ‘নাউরু’ নামেই পরিচিত ছিল। তবে প্রেসিডেন্ট আদিয়াংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় জনগণ নিজেদের মধ্যে কখনো এই নামটি ব্যবহার করেননি।
তিনি বলেন, বহু বছর ধরে আন্তর্জাতিকভাবে দেশটিকে নাউরু নামে ডাকা হয়েছে। মূলত বিদেশিদের উচ্চারণের সুবিধা অনুযায়ী নামটির প্রচলন হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় জনগণের কাছে নিজেদের দেশের পরিচয় ছিল ভিন্ন।
নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি দেশটির আন্তর্জাতিক কোডও বদলে যাচ্ছে। এতদিন ব্যবহৃত ‘NRU’-এর পরিবর্তে নতুন কোড হবে ‘NRO’। একই সঙ্গে দেশটির নাগরিকদের ‘নাউরুন’ না বলে ‘দেই-নাওয়েরো’ নামে উল্লেখ করা হবে। দেশটির নামের প্রচলিত উচ্চারণেও পরিবর্তন আসবে।
প্রেসিডেন্ট আদিয়াং স্পষ্ট করেছেন, এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য অতীতকে অস্বীকার করা নয়। বরং নিজেদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও শিকড়কে সম্মান জানানোই এর উদ্দেশ্য।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশও অতীতে ঔপনিবেশিক পরিচয় থেকে বেরিয়ে আসতে বা নিজস্ব জাতীয় পরিচয়কে তুলে ধরতে নাম পরিবর্তন করেছে। এর মধ্যে সোয়াজিল্যান্ডের নাম পরিবর্তন করে এসোয়াতিনি, রোডেশিয়ার পরিবর্তে জিম্বাবুয়ে, বার্মার পরিবর্তে মিয়ানমার এবং সেইলনের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কা নাম গ্রহণের ঘটনা উল্লেখযোগ্য।
জাতিসংঘে বক্তব্যের শেষ দিকে প্রেসিডেন্ট আদিয়াং বিশ্ববাসীর প্রতি তাদের দেশের নতুন নামটি সঠিকভাবে উচ্চারণ করার আহ্বান জানান। তাঁর এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে নাওয়েরো নতুন পরিচয়ে আত্মপ্রকাশের পথ তৈরি হলো।
সূত্র: এপি
এআরবি