যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী আয়েশা ওয়াহাব। প্রাথমিক ফলাফলে প্রতিদ্বন্দ্বী মেলিসা হার্নান্দেজের চেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় পূর্ণ মেয়াদে কংগ্রেসের আসনটি ধরে রাখার পথে রয়েছেন তিনি। ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে ভোট গণনার প্রাথমিক পর্যায়ে ওয়াহাব ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবং হার্নান্দেজ ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।
৩৯ বছর বয়সী আয়েশা ওয়াহাব আফগান বংশোদ্ভূত মার্কিন রাজনীতিক। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত প্রথম আফগান-আমেরিকান। এর আগে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেটে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৬ সালের আগস্টে বিশেষ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সাবেক কংগ্রেস সদস্য এরিক সোয়ালওয়েলের ছেড়ে যাওয়া আসনের বাকি মেয়াদের দায়িত্ব নেন। ২ সেপ্টেম্বর তিনি প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন। এবার ২০২৭ সাল থেকে শুরু হতে যাওয়া পূর্ণ দুই বছরের মেয়াদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
শৈশব ও শিক্ষাজীবন
১৯৮৭ সালের ১১ জানুয়ারি নিউইয়র্কের কুইন্সে জন্ম আয়েশা ওয়াহাবের। তার জীবনের শুরুর সময়টি ছিল বেশ কঠিন। জীবনীসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, বাবাকে হত্যার পর এবং মায়ের মৃত্যুর পর তিনি দত্তক হিসেবে ক্যালিফোর্নিয়ায় বেড়ে ওঠেন। ফ্রেমন্টের কেনেডি হাইস্কুল থেকে ২০০৫ সালে পড়াশোনা শেষ করেন তিনি।
পরে সান হোসে স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ২০১০ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইস্ট বে থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন। এরপর ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ২০২৪ সালে ডক্টর অব সোশ্যাল ওয়ার্ক (ডিএসডব্লিউ) ডিগ্রি নেন। রাজনীতিতে আসার আগে তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও কাজ করেছেন তিনি।
রাজনীতিতে উত্থান
আয়েশা ওয়াহাবের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় স্থানীয় সরকার থেকে। ২০১৮ সালে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার হেওয়ার্ড সিটি কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হন। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি পদে নির্বাচিত প্রথম আফগান-আমেরিকান হিসেবে পরিচিতি পান তিনি। ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সিটি কাউন্সিলে দায়িত্ব পালনের পর ২০২২ সালে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেটে নির্বাচিত হন। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তিনি সিনেটের সহকারী সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
ক্যালিফোর্নিয়া সিনেটে দায়িত্ব পালনকালে আবাসনসংকট, জীবনযাত্রার ব্যয়, ভোক্তা অধিকার ও সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলোতে কাজ করেন ওয়াহাব। ২০২৩ সালে জাতপাতভিত্তিক বৈষম্য নিষিদ্ধ করতে একটি বিল উত্থাপন করে জাতীয় পর্যায়েও আলোচনায় আসেন। তবে গভর্নর গ্যাভিন নিউসম বিলটিতে ভেটো দেন। তাঁর যুক্তি ছিল, বিদ্যমান নাগরিক অধিকার আইনেই এ ধরনের বৈষম্য নিষিদ্ধ করার বিধান রয়েছে।
নির্বাচনী অগ্রাধিকার ও রাজনৈতিক অবস্থান
এবারের নির্বাচনী প্রচারে স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা এবং জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয় কমানোর ওপর জোর দিয়েছেন আয়েশা ওয়াহাব। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয়, আবাসন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।
সিনেটর থাকাকালে অযৌক্তিক অতিরিক্ত ফি আদায় বন্ধ, বাজারে মূল্য কারসাজি মোকাবিলা এবং ভাড়াটিয়াদের জন্য কর-সুবিধা বাড়ানোর মতো বিষয়েও কাজ করেছেন। প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা এবং বড় করপোরেশনের একচেটিয়া প্রভাব নিয়ন্ত্রণের কথাও বলেছেন তিনি।
যে আসনে লড়ছেন
ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের আওতায় রয়েছে হেওয়ার্ড, প্লেজ্যান্টন, লিভারমোর, ইউনিয়ন সিটি ও কাস্ত্রো ভ্যালিসহ ইস্ট বে অঞ্চলের বেশ কয়েকটি শহর। এ ছাড়া ফ্রেমন্ট ও ডাবলিনের কিছু এলাকাও এ আসনের অন্তর্ভুক্ত।
সাবেক কংগ্রেস সদস্য এরিক সোয়ালওয়েল পদত্যাগ করার পর আসনটি শূন্য হয়। ২০২৬ সালের আগস্টে বিশেষ নির্বাচনে মেলিসা হার্নান্দেজকে হারিয়ে ওয়াহাব ওই আসনের বাকি মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হন। এবার একই প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে পূর্ণ মেয়াদের নির্বাচনে লড়ছেন তিনি।
প্রাথমিক ফলাফলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় ওয়াহাবের জয় অনেকটাই সম্ভাবনাময় হয়ে উঠেছে। তবে ভোট গণনা ও আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাকে চূড়ান্ত বিজয়ী বলা যাচ্ছে না।
সূত্র: কিউইডি, সিবিএস নিউজ, এবিসি৭, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ইতিহাস ও আর্কাইভ এবং প্রতিনিধি পরিষদের সরকারি ওয়েবসাইট