হোম > বিশ্ব > আমেরিকা

ট্রাম্পের শক্তিমত্তা প্রদর্শনে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা

হাসান আদিল

যুক্তরাষ্ট্রে যখন দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এলেন রিপাবলিকান দলের ডোনাল্ড ট্রাম্প, তখনো মনে হয়নি এতটা বেপরোয়া হবেন তিনি। কিন্তু শপথ নেওয়ার পরপর ঘোর কাটল বিশ্বের। নির্বাহী আদেশ জারির মাধ্যমে এমন কিছু কাজ তিনি করলেন, যাতে চোখ কপালে উঠল সবার। তখন ইঙ্গিত মিলল মার্কিন প্রেসিডেন্ট নতুন কিছু করতে যাচ্ছেন। তিনি ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ইতি ঘটাতে চেয়ে ব্যর্থ হলেন। এর মধ্যে শুরু করলেন নতুন এক লড়াই, শুল্কযুদ্ধ। এর কুপ্রভাব থেকে বাঁচতে ট্রাম্পের দরবারে হাজির হতে শুরু করলেন বিশ্বনেতারা। বলতে গেলে অর্ধেক পৃথিবী এভাবেই কাবু করে ফেলেছেন তিনি।

ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ ‘থামিয়ে’ আবার এলেন দৃশ্যপটে। নিজেকে জাহির করতে লাগলেন নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তি হিসেবে। এর মধ্যে ইসরাইলের হয়ে হামলা চালালেন ইরানের পরমাণু স্থাপনায়। যদিও তাতে সুবিধা করতে পেরেছেন বলে মনে হয়নি। কিন্তু ইরানের সরকার ফেলে দেওয়ার খায়েশ তিনি যে ছাড়েননি, তা তার কার্যক্রমে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পরে গাজায় ইসরাইলি গণহত্যায় সহযোগিতার একপর্যায়ে বিবদমান দুপক্ষকে লড়াই থামাতে ট্রাম্প রাজি করালেন।

ব্যালিস্টিক মিসাইলের সুনিপুণ প্রদর্শনী, আকাশে যুদ্ধবিমানের ঝনঝনানি ও ভারতের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের তীব্রতার মধ্যে এলো ২০২৬। নতুন বছরে নতুন স্বপ্ন নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লেন ট্রাম্প, কারাকাস থেকে নিউ ইয়র্কে তুলে নিয়ে এলেন তার অবাধ্য ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে। ইরানের আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে মসনদ থেকে টেনেহিঁচড়ে নামাতে দিলেন প্রত্যক্ষ উসকানি। পাশাপাশি তেহরানে হামলার হুমকিও দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তার বিভিন্ন তৎপরতায় পারস্য উপাসগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের শঙ্কা বিরাজ করছে।

ইরানে বিক্ষোভ থেমে আসার পর মধ্যপ্রাচ্য যখন কিছুটা শান্ত, তখন বরফে ঢাকা আর্কটিক অঞ্চলে যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিলেন ট্রাম্প। বললেনÑগ্রিনল্যান্ড তার চাই। একবার বললেন টাকা দিয়ে কিনে নেবেন, আবার বললেন প্রয়োজনে করবেন বলপ্রয়োগ। পরে বলপ্রয়োগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার কথাও জানালেন তিনি।

এর মধ্যে ট্রাম্প গাজা পুনর্গঠনে খুললেন নতুন একটি ক্লাব, যার নাম দিলেন ‘বোর্ড অব পিস’। একে অনেকেই জাতিসংঘকে অকার্যকর করার পরিকল্পনা হিসেবে দেখছেন। তবে জাতিসংঘ যে বর্তমানে খুব একটা কার্যকর সংস্থা, তাও বলা যায় না।

ট্রাম্পের এসব কর্মকাণ্ডের মূলে রয়েছে পুরো দুনিয়ায় একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার তীব্র আকাঙ্ক্ষা। পৃথিবীর যে প্রান্তেই তার মতের বিরুদ্ধে কেউ আওয়াজ তুলবেন, তাকে তিনি শায়েস্তা করতে দ্বিতীয়বার ভাববেন বলে মনে হয় না। যারা তার অবাধ্যম তাদের বেকায়দায় ফেলতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপের সহায়তা নিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেÑনিষেধাজ্ঞা আরোপ, শুল্কারোপ এবং সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ। ইতিহাস ঘাঁটলে প্রাচীন বাদশাহদের মধ্যে এমন আধিপত্যবাদী চরিত্র লক্ষ করা যায়। তখন বাদশাহরা নিজস্ব রাজ্য নিয়ন্ত্রণে শক্তি প্রয়োগসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করতেন। কিন্তু এখন ট্রাম্প যাকে-তাকে যখন-তখন হুমকি, বলপ্রয়োগ ও শু্ল্কারোপের মাধ্যমে নিজের দেশের গণ্ডি পেরিয়ে দুনিয়ার বাদশাহ হয়ে উঠতে চাইছেন, চাইছেন পুরো দুনিয়াকে তালুবন্দি করতে।

নির্বাহী আদেশের ঝড়

২০২৫ সালের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নিয়েই নির্বাহী আদেশের ঝড় বইয়ে দেন ট্রাম্প। শুরুতেই বাতিল করেন পূর্বসূরি জো বাইডেনের আমলের ৭৮ নির্বাহী আদেশ। এছাড়া ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেওয়া, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারসহ একাধিক আদেশে সই করেন তিনি। এছাড়া সীমান্তে নিরাপত্তা কঠোর করা এবং অভিবাসীনের বিভিন্ন সুযোগ স্থগিত করার আদেশে সই করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তখন থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

শুল্কারোপে কাবু বহু দেশ

ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিভিন্ন দেশের ওপর শুল্কারোপের হুমকি দিচ্ছিলেন ট্রাম্প। এর লক্ষ্য ছিল মার্কিন অর্থনীতি পুনর্নির্মাণে সহায়তা করা। স্বাভাবিকভাবে তিনি কোনো পরিকল্পনা চাপিয়ে দেওয়ার আগে বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে পছন্দ করেন, যাতে এক ধরনের ভীতি ছড়িয়ে দেওয়া যায়। শুল্কারোপের ক্ষেত্রেও তিনি তাই করেছেন।

বহু গর্জনের পর গত বছরের এপ্রিলের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া সব পণ্যের ওপর ন্যূনতম ১০ শতাংশ শুল্কারোপ করা হয়। এছাড়া ৫৭টি দেশের আমদানির ওপর ১১ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত উচ্চহারে শুল্কারোপের ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপরই বিশ্ব অর্থনীতে ঝড় বয়ে যায়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে।

তবে কয়েকদিন পরই ট্রাম্প চীন ব্যতীত সব দেশের জন্য এ ঘোষণা সাময়িক স্থগিত করে সমঝোতার জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেন। বিভিন্ন দেশের নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের সঙ্গে দেনদরবার করে শুল্ক কিছুটা কমিয়ে নিয়েছেন। তবে ভারত পড়েছে বেকায়দায়। দেশটির ওপর নানাভাবে শুল্ক চাপিয়ে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। এমনকি ইউরোপীয় মিত্রদেরও বিন্দুমাত্র ছাড় দিচ্ছেন না রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্ট।

এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ট্রাম্প একটি নতুন বাস্তবতা তৈরিতে মনোযোগী হয়েছেন, যার সরল অর্থ দাঁড়ায়Ñযুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য করতে চাইলে তাকে চটানো যাবে না, রাশিয়া বা চীনের সঙ্গে করা যাবে না কারবার।

ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় গাজায় যুদ্ধবিরতি

ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অব্যাহত সমর্থনে ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে গাজায় ইতিহাসের নিকৃষ্টতম বর্বরতা চালিয়েছে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ইসরাইল। ট্রাম্প এসে সহায়তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন। এ সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত দুই লাখ।

যদিও সংঘাতের শুরুটা হয়েছিল ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের দিক থেকেই। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের তৎপরতায় গত বছরের শেষ দিকে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় তেলআবিব ও হামাস। কিন্তু এখনো গাজায় হামলা জারি রেখেছে ইসরাইল।

জাতিসংঘের ‘বিকল্প’ ট্রাম্পের ক্লাব

দীর্ঘ লড়াইয়ে গাজাকে প্রায় মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে ইসরাইল। ওই ধ্বংসস্তূপ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিতে ট্রাম্প একটি ক্লাব করেছেন, যার নাম দিয়েছেন ‘বোর্ড অব পিস’। কদিন আগে সুইজারল্যান্ডের দাভোস ইকোনমিক ফোরামে নিজের নতুন এ ক্লাবের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। ঘোষণার দিন সেখানে ১৯ দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আরো বহু দেশ এতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

ইকোনমিক ফোরামে নতুন ক্লাবের উদ্বোধনের সময় ‘নতুন গাজা’ কেমন হবে তার একটি ঝলক দেখানো হয়। তাতে দেখা যায় ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলজুড়ে কেমন ভবন নির্মাণ হবে। এছাড়া নতুন আবাসিক, কৃষি এবং শিল্প এলাকা কীভাবে উন্নয়ন করা হবে, দেখানো হয় তারও একটি রূপরেখা।

দাভোসে ঘোষণা হওয়া নতুন ক্লাবের চেয়ারম্যান ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমরা গাজায় খুব সফল হতে যাচ্ছি। এটা দেখার মতো দারুণ একটি বিষয় হতে চলেছে।’

এরপর থেকেই আলোচনা শুরু হয়েছেÑট্রাম্পের মাথায় কি জাতিসংঘকে অকার্যকর করার ভূত চেপেছে? কেননা, তার এ উদ্যোগ বিভিন্ন দেশে বুনে দিয়েছে সন্দেহের বীজ। তাই তো বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের লোক বলতে শুরু করেছেন, এটি ট্রাম্পের সেই উদ্যোগের আরেক প্রমাণ, যার লক্ষ্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক কাঠামো ভেঙে ফেলা এবং তার জায়গায় নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যা তার প্রভাবের অধীন থাকবে।

মাদুরোকে অপহরণ

নতুন বছর ২০২৬ সালেও ট্রাম্প তার পুরোনো ছন্দ ধরে রাখেন। বছরের শুরুতে যা করেছেন তাতে আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি বা আইনের প্রতি তার যে বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা নেই, তা পরিষ্কার হয়ে উঠেছে। জানুয়ারির শুরুতে তিনি তার ডেল্টা ফোর্স পাঠিয়ে ভেনেজুয়েলা থেকে তুলে আনেন দেশটির নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে। তার সঙ্গে তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকেও তুলে নেওয়া হয়। পরে তাদের বিচারের মুখোমুখি করার জন্য নিউ ইয়র্কে নেওয়া হয়। যতিও ভেনেজুয়েলার নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

মাদুরোকে তুলে আনার আগে তার বিরুদ্ধে বহুদিন ধরে মাদকসংক্রান্ত অভিযোগ করে আসছিলেন ট্রাম্প। বারবার আলোচনার জন্য হুংকারও দেওয়া হচ্ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে। কিন্তু তাতে রাজি না হওয়ায় মাদুরোকে শেষ পর্যন্ত তুলে নেওয়া হয় ট্রাম্পের ‘দরবারে’। এরপর কিউবাকেও হুমকি দিয়েছেন তিনি।

এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়, আশপাশের দেশগুলোকে ঘরের উঠান মনে করে যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে একমাত্র আমেরিকার কথাই শেষ কথা। হয় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হও, না হয় পস্তাও।

ইরানে হামলা, বিক্ষোভে উসকানি

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকে ইরানকে নিশানা করেন ট্রাম্প। বাগ্‌যুদ্ধ পেরিয়ে গত বছরের মাঝামাঝিতে সরাসরি হামলা চালানো হয় দেশটির পরমাণু স্থাপনায়। এর আগে ইসরাইলও হামলা চালায়। ইরানও পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইসরাইলে হামলার পাশাপাশি কাতারে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে প্রতীকী হামলা চালায়। সে যাত্রায় দ্বৈরথ থামলেও ট্রাম্প দমে যাওয়ার পাত্র নন।

সম্প্রতি ইরানে দ্রব্যমূল্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিক্ষোভ দেখা দেয়। তা দ্রুতই সহিংস হয়ে ওঠে। এতে সরাসরি উসকানি দেন ট্রাম্প। বলেন, ‘সাহায্য আসছে।’ এমনকি ইরানে ইসলামি শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটাতে হামলার হুমকিও দেন তিনি। যদিও পরে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এয়ারক্র্যাফ্ট ক্যারিয়ার উপসাগরীয় অঞ্চলে আসায় মার্কিন হামলার বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এ হুমকির মধ্যে তেহরানও নিজেদের প্রস্তুত করে রেখেছে।

গ্রিনল্যান্ড দখলের খায়েশ

দুনিয়ার দেশে দেশে ত্রাস ছড়িয়ে ট্রাম্প পৌঁছে গেছেন ইউরোপেও। আলাপ শুরু করেন ডেনমার্কের দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড দখল বা অধিগ্রহণের। সম্প্রতি হোয়াইট হাউস জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখল বা অধিগ্রহণের বিষয়ে বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করছেন। বিকল্পগুলোর মধ্যে সামরিক বাহিনী ব্যবহারের বিষয়টিও রয়েছে। গ্রিনল্যান্ডকে নিয়ন্ত্রণে আনাটা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি বিষয়গুলোর একটি।

ট্রাম্পের অভিযোগ, বিশ্বশান্তি ঝুঁকির মুখে! চীন গ্রিনল্যান্ড চায় আর ডেনমার্ক সেটি ঠেকানোর কিছুই করতে পারবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন।

ডেনমার্ক দীর্ঘদিন ধরেই আর্কটিক অঞ্চলের দ্বীপটি নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহের বিরোধিতা করে আসছে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ডে হামলা চালায়, তাহলে তা ন্যাটো জোটের সমাপ্তি ঘটাবে।

বাগ্‌যুদ্ধ চলার মধ্যে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের বলপ্রয়োগের শঙ্কা দেখা দেয়। উত্তেজনার মধ্যে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ গ্রিনল্যান্ড রক্ষায় সেখানে সেনা পাঠায়। এতে মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মিত্র দেশগুলোর সেনারা। ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন পৃথিবীর অঘোষিত বাদশাহ ট্রাম্প। শাস্তিস্বরূপ ইউরোপের মিত্র দেশগুলোর ওপর সবচেয়ে মোক্ষম অস্ত্র ‘শুল্ক’ আরোপের হুমকি দেন তিনি।

শুল্কারোপ, সামরিক অভিযান, হুমকি বা নিষেধাজ্ঞাÑবিভিন্ন পন্থায় নিজের একক কর্তৃত্ব বিশ্বে প্রতিষ্ঠার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। মাঝেমধ্যে কিঞ্চিত প্রতিরোধের মুখে পড়লেও মোটাদাগে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের জোরে তার মতই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে। এত বিপুল ক্ষমতা পেয়ে ট্রাম্প আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা করা এক প্রকার ছেড়েই দিয়েছেন, হয়ে উঠছেন আরো বেপরোয়া। এমন পরিস্থিতিতে ঘরে থাকা প্রতিপক্ষ ডেমোক্র্যাটরাও খেই হারিয়ে ফেলেছেন। কার্যকর কোনো প্রতিরোধ বা প্রতিবাদ তাদের দিক থেকে লক্ষ করা যাচ্ছে না। যেন দানবের ছায়ায় ঢাকা পড়েছে বছরখানেক আগেও ক্ষমতায় থাকা দলটি। সে সুযোগে ট্রাম্প হয়ে উঠছেন আরো একরোখা, আরো ভয়ংকর।

ইরানকে ট্রাম্পের আল্টিমেটাম, পাল্টা হুঁশিয়ারি তেহরানের

জব্দকৃত তেল ট্যাঙ্কার ভেনেজুয়েলাকে ফেরত দেবে যুক্তরাষ্ট্র

কলম্বিয়ায় যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্তে নিহত ১৫

শান্তি বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ঘোষণা, চীন-রাশিয়াসহ বাদ পড়ল যারা

‘আগুন নিয়ে খেলছেন’, মিনিয়াপোলিস মেয়রকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

ফিলিস্তিনপন্থি মার্কিন আইনপ্রণেতা ইলহান ওমরের ওপর হামলা

‘সময় ফুরিয়ে আসছে, পরের হামলা আরো ভয়াবহ হবে’

আটককৃত ট্যাঙ্কারের দুই রাশিয়ান নাবিককে মুক্তি দিল যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান হারলে যুক্তরাষ্ট্রে ‘খুবই খারাপ কিছু’ ঘটবে: ট্রাম্প

মিনেসোটায় চলমান `উত্তেজনা কমানোর’ ঘোষণা ট্রাম্পের