হোম > বিশ্ব > আমেরিকা

ট্রাম্পের বিজয় তোরণে থাকবে ড্রোন ও অস্ত্রের মজুত

দ্য গার্ডিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে নির্মাণের পরিকল্পনা করা বিশাল বিজয় তোরণকে একটি ‘উচ্চমানের সামরিক কমপ্লেক্সে’ রূপ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, মার্কিন সামরিক বাহিনীর অনুরোধেই তোরণটির নকশায় ড্রোন, স্নাইপারদের গোলাবারুদ এবং ছাদ ও চত্বরে বিশেষ স্নাইপার সুবিধা রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, প্রায় ২৫০ ফুট উঁচু এই স্থাপনায় বিপুল পরিমাণ স্নাইপার গোলাবারুদ সংরক্ষণ ও দ্রুত ব্যবহারের ব্যবস্থা থাকবে। তিনি দাবি করেন, এ ধরনের স্থাপনা বিশ্বের আর কোথাও নেই।

ওয়াশিংটনের মেমোরিয়াল ব্রিজের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এই বিজয় তোরণ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর অবস্থান নিয়ে ইতোমধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তোরণটি নির্মিত হলে লিংকন মেমোরিয়াল, আর্লিংটন ন্যাশনাল সেমেটারি এবং আশপাশের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর মধ্যকার দৃশ্যমান সম্পর্ক ও ঐতিহাসিক দৃশ্যপটে প্রভাব পড়তে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে।

জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষও প্রকল্পটি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের একটি পরিকল্পনা নথিতে বলা হয়েছে, তোরণটি নির্মাণের ফলে আশপাশের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। কর্তৃপক্ষ আরও পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে।

তোরণটির নির্ধারিত স্থানটি রোনাল্ড রিগ্যান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল বিমানবন্দরের কাছাকাছি হওয়ায় এর প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্যদের কেউ কেউ বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ও রাজধানীর আকাশসীমা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

প্রকল্পটি নিয়ে সংরক্ষণবাদী সংগঠন, সাবেক সেনাসদস্য এবং আইনপ্রণেতাদের মধ্যেও আপত্তি রয়েছে। কয়েকজন সাবেক সেনাসদস্য তোরণ নির্মাণ বন্ধের দাবিতে আইনি পদক্ষেপও নিয়েছেন। তাদের উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে আর্লিংটন ন্যাশনাল সেমেটারি ও অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থাপনার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব।

ওয়াশিংটনে এটি ট্রাম্পের নেওয়া একাধিক বড় নির্মাণ প্রকল্পের একটি। রাজধানীর সৌন্দর্য ও স্থাপত্যগত মর্যাদা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প প্রশাসন এসব প্রকল্পের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এর মধ্যে হোয়াইট হাউসের একটি বড় বলরুম নির্মাণ, লিংকন মেমোরিয়ালের রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কার এবং কেনেডি সেন্টার সংস্কারের পরিকল্পনাও রয়েছে।

তবে এসব প্রকল্পের কয়েকটি ইতোমধ্যে নানামুখী সমস্যায় পড়েছে। কোথাও স্থাপত্যগত সৌন্দর্য নিয়ে সমালোচনা হয়েছে, কোথাও নির্মাণ ও কাঠামোগত জটিলতা তৈরি হয়েছে, আবার কোনো কোনো প্রকল্প আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বিজয় তোরণের নির্মাণকাজ চলতি মাসেই শুরু হওয়ার কথা। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণার ২৫০তম বার্ষিকীর সঙ্গে প্রকল্পটির সময়সূচি যুক্ত করেছেন ট্রাম্প। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, তোরণটি গ্রানাইট দিয়ে তৈরি হবে এবং এর ওপর তিনটি সোনালি মূর্তি থাকবে।

ট্রাম্পের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্থাপনাটি শুধু স্মারক বা স্থাপত্যকীর্তি হিসেবে নয়, সামরিক সরঞ্জাম সংরক্ষণ ও ব্যবহারের সুবিধাসহ একটি সামরিক স্থাপনা হিসেবেও ব্যবহৃত হবে। তবে ঐতিহাসিক স্থাপনা, বিমানবন্দর ও রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যপটে এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলো প্রকল্পটির সামনে বড় বিষয় হয়ে রয়েছে।

কৃষিতে রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ

জাতিসংঘের মহাসচিব পদে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন মিশেল বাশেলে

তিন সন্তান হত্যার ঘটনায় মুখ খুললেন প্যাট্রিক ক্ল্যান্সি

নারী খুনিদের নিয়ে কেন এত আগ্রহ

চীনের তীব্র সমালোচক ট্রাম্প কেন শি জিনপিংকে লালগালিচা সংবর্ধনা দিচ্ছেন

গ্রিনল্যান্ডে বাড়বে মার্কিন সেনা, স্থাপন হবে সামরিক ঘাঁটি

ঔপনিবেশিক শাসনের জন্য ব্রিটেনের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি

১৪ গুণ বেশি কার্বন ছড়ায় ব্যক্তিগত জেট, ব্যবহারকারী ২ লাখ ৫৬ হাজার

ভারতীয় পণ্যে ১০০ শতাংশ মার্কিন শুল্কারোপের শঙ্কা, ঘুম হারাম রপ্তানিকারকদের

আমেরিকান জনগণের সমর্থন হারিয়েছে ইসরাইল, এরপর কি রাজনীতিবিদদের পালা