হোম > বিশ্ব > আমেরিকা

প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথ তৈরি করতে ট্রাম্পকে বিপদে ফেলছেন ভ্যান্স

সিএনএন

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় বিপর্যয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও নীতির সমালোচনায় সরব হয়েছেন তার ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতার সম্ভাবনা ধরে রাখতে এখন থেকেই দলটির নেতৃত্বে জায়গা করে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের কারণ হিসেবে ইরান যুদ্ধ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং দলের অর্থনৈতিক প্রচারণার দুর্বলতার কথা তুলে ধরেছেন ভ্যান্স। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ইসরাইলনীতিতে পরিবর্তন আনারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তার এসব বক্তব্যে ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদের কৌশল নিয়ে পরোক্ষ সমালোচনা উঠে এসেছে। অন্যদিকে ট্রাম্প নির্বাচনে দলের বিপর্যয়ের পরও নিজের হোয়াইট হাউসের নতুন বলরুম নির্মাণকাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। এই দুই বিপরীত অবস্থানকে ট্রাম্পের রাজনৈতিক যুগে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

বুধবার রিপাবলিকানদের নির্বাচনি বিপর্যয়ের পর দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন ভ্যান্স। তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার প্রাথমিক ইঙ্গিতও দেখা গেছে। অন্যদিকে ট্রাম্প এদিনকে ‘উদ্‌যাপনের দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডগ বার্গামের ভাষায়, দিনটি ছিল উদ্‌যাপনের।

হোয়াইট হাউসে নির্মাণাধীন নতুন বলরুমে উপস্থিত থেকে ছাদ পর্যন্ত শেষ বিম স্থাপনের কাজ দেখেন ট্রাম্প। দৃশ্যটি ছিল কোনো ক্রীড়া দলের চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর ট্রফি উদ্‌যাপনের মতো। অথচ এর মাত্র এক দিন আগে মধ্যবর্তী নির্বাচনে তার দল প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে।

নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বিপর্যয়ের পরও ট্রাম্পকে খুব একটা হতাশ দেখায়নি। বরং নিজের পছন্দের প্রকল্প বাস্তবায়নে পুরো মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন—এমন মনোভাব দেখা গেছে তার মধ্যে। যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি উপেক্ষা করে নিজের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ও স্থাপত্যকীর্তি গড়ার প্রতি তার আগ্রহ নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ক্ষতির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নির্মাণাধীন বলরুম ঘুরে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘শিগগিরই এখানে চারদিকে ঝাড়বাতি থাকবে, মেঝেতে থাকবে মার্বেল পাথর। এটি খুব সুন্দর হবে। এটি হবে সবচেয়ে সুন্দর ভবন।’

ট্রাম্প যখন ভবনে আরো সোনালি সাজসজ্জা যুক্ত করার কথা ভাবছেন, তখন ভ্যান্সের সামনে ভিন্ন চ্যালেঞ্জ। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর রিপাবলিকান পার্টিকে কীভাবে এই বিপর্যয় থেকে বের করে আনা যায়, তা নিয়ে ভাবতে হচ্ছে তাকে। একই সঙ্গে নিজের প্রেসিডেন্ট হওয়ার স্বপ্নও বাঁচিয়ে রাখতে চান তিনি। সে জন্য দলটির ভোটারদের নিয়ে নতুন নির্বাচনি জোট গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন ভ্যান্স।

নির্বাচনে হোয়াইট হাউসের বড় পরাজয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভ্যান্সের এমন খোলামেলা বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। তার পোস্টে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং দ্বিতীয় মেয়াদের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে একাধিক পরোক্ষ সমালোচনা ছিল।

দলীয় নেতৃত্বে জায়গা করে নিতে চান ভ্যান্স

ভ্যান্সের বক্তব্যকে রিপাবলিকান নেতাদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের দাবিদার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে তার এই কৌশল কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ওহাইওর গভর্নর পদপ্রার্থী বিবেক রামাস্বামীর পক্ষে প্রচারে একটি আক্রমণাত্মক বিজ্ঞাপনকে সমর্থন করে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ভ্যান্স। বিজ্ঞাপনটি শেষ পর্যন্ত রামাস্বামীর জন্য উল্টো ক্ষতির কারণ হয়েছিল। ওই ঘটনায় ভ্যান্সের রাজনৈতিক বিচারবুদ্ধি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

এবারের পোস্টে ভ্যান্স স্বীকার করেছেন, নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে রিপাবলিকানদের অর্থনৈতিক প্রচারণা যথেষ্ট জোরালো ছিল না। তিনি লিখেছেন, ‘শেষ দিকে আমাদের অর্থনৈতিক বার্তা যথেষ্ট স্পষ্ট ছিল না’—এ বিষয়ে রিপাবলিকান দলের একজন নির্বাচনি জরিপ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে তিনি একমত।

অথচ ওই সময় ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে ‘স্বর্ণযুগ’ প্রতিষ্ঠার কথা বলছিলেন। অন্যদিকে দেশটিতে পেট্রল ও ডিজেলের দাম বেড়ে যাচ্ছিল।

ভ্যান্স তার পোস্টে ট্রাম্পের মেয়াদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি থেকেও দূরত্ব তৈরির চেষ্টা করেছেন। একটি হলো ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, অন্যটি অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান।

ভ্যান্স লিখেছেন, ‘আমরা যে কারণে হেরেছি, তা হলো যুদ্ধ।’

অভিবাসন নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘আমি মনে করি, আইন প্রয়োগের পদ্ধতি পরিবর্তন করা যেতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, অবৈধ শ্রমিক নিয়োগকারী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে বেশি নজর দেওয়া যেতে পারে।’

তবে এ বিষয়ে নিজের অবস্থানের পক্ষে রাজনৈতিক সুরক্ষাও তৈরি করতে চেয়েছেন তিনি। তার বক্তব্যে ইঙ্গিত ছিল, আইন প্রয়োগের পদ্ধতি পরিবর্তনের বিকল্প হিসেবে সাধারণ ক্ষমা দেওয়ার প্রস্তাব সামনে আনছেন প্রতিষ্ঠিত রাজনীতিকেরা। ভ্যান্স তাদের ‘বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়া’ রাজনীতিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ট্রাম্প-ভ্যান্স সমর্থকদের মধ্যে যারা অসন্তুষ্ট হয়ে পড়েছেন, তাদের আবার রিপাবলিকান শিবিরে ফেরাতে কী করা প্রয়োজন, তা জানতে একজন নির্বাচনি জরিপ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলেছিলেন ভ্যান্স। ওই ব্যক্তিকে রাজনীতিতে তার পরিচিত সবচেয়ে বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের একজন বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। সেই আলোচনার ভিত্তিতে চারটি করণীয় তুলে ধরেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট।

১. ইরান যুদ্ধ বন্ধ করা।

২. জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দেওয়া।

৩. ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করা।

৪. ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ধরন পরিবর্তন করা।

ভ্যান্সের এই চার দফা অবস্থান রিপাবলিকানদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে তার চিন্তাভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ইরান যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে কথা বলায় ফক্স নিউজের উপস্থাপক র‌্যাচেল ক্যাম্পোস-ডাফিকেও সমর্থন করেছেন ভ্যান্স। ট্রাম্প নতুন করে ইরানে হামলার কথা বিবেচনা করছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভ্যান্সের এই অবস্থান প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার মতপার্থক্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প-ভ্যান্সের অবস্থানে ফারাক

ইরান যুদ্ধকে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের কারণ হিসেবে উল্লেখ করলেও ভ্যান্স তার বক্তব্যে সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট গত রাতে এ কথা বলেছেন।’ অর্থাৎ যুদ্ধের কারণে নির্বাচনে পরাজয়ের বিষয়টি তিনি নিজের বক্তব্য হিসেবে নয়, ট্রাম্পের আগের বক্তব্যের সূত্র ধরে তুলে ধরেছেন।

ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রকাশ্যে ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি বিরোধে যাননি ভ্যান্স। বরং গ্রীষ্মে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে সমঝোতা স্মারক তৈরির জন্য যে মার্কিন আলোচক দল কাজ করেছিল, তার নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে সেই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি।

তবে ভ্যান্সের সাম্প্রতিক বক্তব্যে যুদ্ধ নিয়ে তার সঙ্গে ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে। ট্রাম্প এখন মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে এমনভাবে কথা বলছেন, যেন রাজনৈতিক ক্ষতি জেনেও তিনি প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তার মতে, যুদ্ধের কারণে সাময়িকভাবে জ্বালানির দাম বেড়েছে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে তিনি যা করা প্রয়োজন মনে করেছেন, তা-ই করেছেন।

বুধবার ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কিছুই ভিন্নভাবে করতাম না।’

অন্যদিকে ভ্যান্সের বক্তব্যে যুদ্ধের শুরু থেকেই সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল—এমন ব্যাখ্যার সুযোগ রয়েছে। তার মতে, এই যুদ্ধের জন্য রিপাবলিকানদের বড় রাজনৈতিক মূল্য দিতে হয়েছে।

ভ্যান্স লিখেছেন, ‘আপনি যদি যুক্তি দিতে চান যে যুদ্ধটি সার্থক ছিল, আগামী ছয় বছরের জন্য সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোও যদি সেই মূল্যের তুলনায় গ্রহণযোগ্য মনে করেন, তাহলে তা-ই বলুন। যুক্তি দিন, এই মূল্য দেওয়া সার্থক ছিল। আপনার সঙ্গে একমত হই বা না হই, অন্তত সেটি হবে সৎ বক্তব্য। কিন্তু আমরা কেন হেরেছি, তা সবাই জানে। সামনে আমরা কোন পথে যাব, সে বিষয়ে যেকোনো সৎ আলোচনা শুরু করতে হবে সেখান থেকেই।’

ভ্যান্সের সঙ্গে মতপার্থক্যের বিষয়টি এড়িয়ে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে তার ভাইস প্রেসিডেন্ট সম্ভবত ঠিকই বলেছেন। যুদ্ধের কারণে স্বল্প মেয়াদে পেট্রলের দাম কিছুটা বেড়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পরে ভ্যান্সও দুই নেতার মধ্যে বিরোধের ধারণা কমানোর চেষ্টা করেন। হোয়াইট হাউসের বলরুম পরিদর্শনের সময় ট্রাম্প তার বক্তব্যকে ‘ভালো’ বলেছেন—এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন তিনি।

২০২৮ সালের দৌড়ে এগিয়ে আসছেন ডিস্যান্টিসও

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ভ্যান্সের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার বিষয়। কারণ, অতীতে বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন তিনি। ইরাক যুদ্ধে নিজের সামরিক অভিজ্ঞতা থেকেই এমন অবস্থান তৈরি হয়েছিল বলে মনে করা হয়।

এবার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি এবং ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে এনে ভ্যান্স মাগা জোটের অবশিষ্ট অংশের মধ্যে থাকা বিচ্ছিন্নতাবাদী ধারার সমর্থকদের কাছেও পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। এই ধারার অন্যতম পরিচিত মুখ ফক্স নিউজের সাবেক উপস্থাপক টাকার কার্লসন।

তবে মঙ্গলবারের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বিপর্যয়ের পর ইরান যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত কোনো নেতার পক্ষে ২০২৮ সালের নির্বাচনি প্রচারে এই যুদ্ধের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা কঠিন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নামও আলোচনায় আসছে।

ভ্যান্সকে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান কয়েকবার বদলানোর বিষয়েও জবাব দিতে হতে পারে। গত মাসে রামাস্বামীকে ঘিরে বিতর্কের আগেও তার রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। এখন পর্যন্ত তিনি নিজে মাত্র একটি বড় নির্বাচনি লড়াই করেছেন। সেটি ছিল ২০২২ সালে ওহাইওর সিনেট নির্বাচন। ওই নির্বাচনে ট্রাম্পের সমর্থন তার জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনি প্রচারে ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করলেও পরে তার সমর্থন পেয়েছিলেন ‘হিলবিলি এলিজি’ বইয়ের লেখক ভ্যান্স।

তবে ২০২৮ সালের নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছেন শুধু ভ্যান্স নন। ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিসও নিজের অবস্থান তুলে ধরছেন। ২০২৪ সালের রিপাবলিকান দলের প্রাথমিক মনোনয়ন প্রতিযোগিতায় ট্রাম্পের কাছে হেরে গিয়েছিলেন তিনি।

ভ্যান্স ও রুবিওর মতো ডিস্যান্টিসের বক্তব্যও এখন ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ডিস্যান্টিস লিখেছেন, ‘২০২৮ সালে রিপাবলিকানদের পক্ষে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া খুবই অসম্ভব। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সুযোগ হয়তো ২০৩২ সালের আগে আসবে না।’

মঙ্গলবারের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয় নিয়ে সাংবাদিকদের ডিস্যান্টিস বলেন, ‘দেশের অনেক এলাকায় রিপাবলিকানদের জন্য এটি প্রায় অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার মতো ঘটনা। গত ১০০ বছরে সম্ভবত এমন পরিস্থিতি দেখা যায়নি।’

এই পরাজয়ের প্রভাব আগামী এক দশক বা তারও বেশি সময় ধরে থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ডিস্যান্টিস বলেন, ‘রিপাবলিকান পার্টির জন্য টেক্সাস যদি একটি শক্ত ভিত্তি হিসেবে না থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে দলটির কার্যকর থাকার সুযোগ থাকবে না।’

ফ্লোরিডার গভর্নরের এসব বক্তব্যের উদ্দেশ্যও ভ্যান্সের মতোই বলে মনে করা হচ্ছে। অর্থাৎ রিপাবলিকান পার্টির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে নিজের অবস্থান তৈরি করা।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জোয়ারের মধ্যেও ফ্লোরিডা মূলত রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণেই ছিল। ট্রাম্প-পরবর্তী রিপাবলিকান পার্টি কেমন হতে পারে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই অঙ্গরাজ্যকে পরীক্ষাক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন ডিস্যান্টিস।

মঙ্গলবার নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা ঠাট্টা করে বলেছিলেন, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হবে বুধবার সকাল থেকে। ভ্যান্সের সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে।

এএম

মূল্যস্ফীতির জন্য ট্রাম্পকে দায়ী করছেন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার

নিউইয়র্ক পুনর্গঠনে জোহরান মামদানির নতুন রাজনীতি

আগামী সপ্তাহেই অভিশংসিত হতে পারেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

‘ইসলামপন্থি ও কমিউনিস্টদের দখলে ডেমোক্রেটিক পার্টি’

রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিগুলোও ডেমোক্র্যাটদের নতুন দুর্গ

রিপাবলিকানদের ভরাডুবি, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সম্পর্কে নতুন সংকটের আভাস

ডেমোক্র্যাটদের উদীয়মান তারকা জন অসফ, হতে পারবেন কি আগামীর ওবামা

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন মুসলিম প্রার্থীরা

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীদের জয়জয়কারÑ বিজয়ী ৩৪, ভোট গণনায় এগিয়ে ৩

ইসরাইল নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য, রাজনীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত