যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল ইরান যুদ্ধের গতি-প্রকৃতিতে ‘উল্লেখযোগ্য প্রভাব’ ফেলতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পারসি। তার আশঙ্কা, মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা পরাজিত হলে ইরান ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও বেপরোয়া পদক্ষেপ নিতে পারেন।
আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পারসি বলেন, নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়লে ট্রাম্প পাল্টা আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারেন। এ প্রসঙ্গে তিনি ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেন। ওই নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর ট্রাম্প ভোট জালিয়াতির মিথ্যা অভিযোগ তুলেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তার সমর্থকেরা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনে হামলা চালায়।
পারসি বলেন, ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ওই দুই মাস ছিল এমন একটি সময়, যখন ট্রাম্প সবচেয়ে বেশি বেপরোয়া ছিলেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে ইসরাইলি সরকারের পক্ষ থেকেও ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে। কারণ, ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে ইরান যুদ্ধ অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের সামনে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারবে। এমনকি যুদ্ধের অর্থায়নও বন্ধ করে দিতে পারবে। কারণ, তখন কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থ বরাদ্দের নিয়ন্ত্রণ থাকবে তাদের হাতে।
পারসির আশঙ্কা, নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে, অর্থাৎ জানুয়ারির আগেই ইসরাইলি সরকার ট্রাম্পকে তৃতীয় দফায় ইরানে হামলার জন্য চাপ দিতে পারে।
তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন দিক থেকেই মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল এই যুদ্ধের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।’
সূত্র: আলজাজিরা
আরএ