ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবানিজের বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলেও, এতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থানের কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, আদালতের সাম্প্রতিক এক রায়ের কারণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আলবানিজের নাম নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে সাময়িকভাবে সরিয়েছে।
এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, “সরকার আদালতের এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছে।” একই সঙ্গে তারা জানায়, আদালতের আদেশ স্থগিত বা বাতিল হলে আলবানিজের নাম আবারও বিশেষভাবে মনোনীত নাগরিকদের (এসডিএন) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে ট্রাম্প প্রশাসন আলবানিজের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। কারণ, তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ কয়েকজন ইসরাইলি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির সুপারিশ করেছিলেন।
মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ আলবানিজ দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের নীতির কঠোর সমালোচক। তিনি গাজায় চলমান ঘটনাকে গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন।
গাজায় নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা ৭৫ হাজার ছাড়িয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আলবানিজ ইতালীয় নাগরিক হলেও তার মেয়ে একজন মার্কিন নাগরিক এবং যুক্তরাষ্ট্রে তার সম্পদ রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তার পরিবার ওয়াশিংটন ডিসির একটি ফেডারেল আদালতে নিষেধাজ্ঞা বাতিলের দাবিতে মামলা করে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, এই নিষেধাজ্ঞা আলবানিজের সাংবিধানিক অধিকার, বিশেষ করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘন করেছে।
মামলায় আরও বলা হয়, নিষেধাজ্ঞার কারণে আলবানিজ তার ব্যাংক হিসাব, অ্যাপার্টমেন্ট এবং যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার হারান।
গত ১৩ মে মার্কিন জেলা বিচারক রিচার্ড লিয়ন আলবানিজের পক্ষে রায় দেন এবং নিষেধাজ্ঞা কার্যকর স্থগিত করতে প্রাথমিক আদেশ জারি করেন।
রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারক লিয়ন তার রায়ে বলেন, সরকার মূলত আলবানিজের বক্তব্য ও মতামতের কারণেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে।
তিনি লেখেন, “আলবানিজ শুধু তার মত প্রকাশ করেছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর তার সুপারিশের কোনো বাধ্যতামূলক প্রভাব নেই।”
ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সংক্রান্ত মামলায় সম্পৃক্ততার কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারকদের মতো আরও কয়েকজন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, আলবানিজের কর্মকাণ্ড “পক্ষপাতদুষ্ট ও বিদ্বেষমূলক”, যা তাকে এ দায়িত্ব পালনের অযোগ্য করে তুলেছে। একই সঙ্গে নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাকেও “আইনকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার” বলে আখ্যা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
এসআর