হোম > বিশ্ব > আমেরিকা

ইরান যুদ্ধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ

আমার দেশ অনলাইন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের স্বতন্ত্র ভোটারদের ওপর প্রভাব ফেলছে। এই ভোটাররাই গুরুত্বপূর্ণ একটি গোষ্ঠী, যারা নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের রিপাবলিকান দল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে কি না, তা নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

পেনসিলভেনিয়ার ব্রেকফাস্ট ডিনার সুইং স্টেটে, যেখানে রাজনৈতিক মতাদর্শ খুব দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে, সেখানে মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন সংঘাতকে নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি দেখা গেছে।

৬৫ বছর বয়সি অবসরপ্রাপ্ত পোস্টাল কর্মী জোলিন লয়েড বলেন, ‘ট্রাম্প আমাদের আরেকটি ইরাক বা ভিয়েতনাম পরিস্থিতিতে জড়িয়ে ফেলছেন।’

তিনি আগে মাঝে মাঝে দুই দলের মধ্যে ভোট দিলেও এবার কেবল ডেমোক্র্যাটদেরই সমর্থন করবেন বলে জানিয়েছেন।

বর্তমানে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসে সামান্য ব্যবধানে নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। তাই সামান্য ভোটে হারালেই তাদের জন্য বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে।

এই নির্বাচন নির্ধারণ করবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সহজে আইন পাস করতে পারবেন, নাকি ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কংগ্রেস তা বাধাগ্রস্ত করবে।

জীবনযাত্রার ব্যয় ইতোমধ্যে ভোটারদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বাড়লে তা ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনি প্রচারে একটি বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

লয়েড বলেন, ‘গ্যাসের দাম এখন আকাশছোঁয়া... পুরো বিষয়টাই বিশৃঙ্খল।’

লেভিটাউনে এএফপির সফরের সময় এই বিভক্তির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ফিলাডেলফিয়ার উপকণ্ঠে অবস্থিত এই শ্রমজীবী এলাকাটি গাড়ির শোরুম ও অটো রিপেয়ারের দোকানে ভরপুর।

সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, নিরপেক্ষ ভোটারদের ৬০ শতাংশই ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করেন।

-কিছুটা উদ্বেগজনক-

লয়েডের পাশে বসা ওয়েল্ডার ভিন্স লুসিসানো ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন। তিনি মনে করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি।

তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ না স্থলসেনা পাঠানো হচ্ছে, ততক্ষণ আমি খুব উদ্বিগ্ন নই। কিন্তু পুরোপুরি যুদ্ধ শুরু হলে বিষয়টা ভয়ংকর হয়ে যাবে।’

লুসিসানো আরও বলেন, ‘আমরা চাই ইরানকে নিয়ন্ত্রণে রাখা হোক। কিন্তু বিষয়টি যদি একটি বড় যুদ্ধে পরিণত হয়, তখন তা চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।’

তবে তিনি নভেম্বরের নির্বাচনে এখনো রিপাবলিকানদেরই সমর্থন করবেন বলে জানান।

কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটির সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা অনুসারে জানা গেছে, স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ৬০ থেকে ৩১ শতাংশ ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করেন।

অন্যদিকে এক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির ৭১ শতাংশ নিরপেক্ষ ভোটার মনে করেন যে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের কারণ স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অস্পষ্টতা রিপাবলিকানদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

পেনসিলভেনিয়ার মুহলেনবার্গ কলেজ ইনস্টিটিউট অব পাবলিক ওপিনিয়নের পরিচালক ক্রিস্টোফার বোরিক উল্লেখ করেন, ইরান ইস্যুর পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় ও অভিবাসন ইস্যুও ভোটারদের মধ্যে প্রভাব ফেলছে।

-কিছু ত্যাগ স্বীকার-

ডিনারের কর্মী ববি মারোজ্জি জানান, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে থামানোর প্রচেষ্টার জন্য তিনি ট্রাম্পকে সমর্থন করেন। যদিও দীর্ঘ মেয়াদে এর প্রভাব নিয়ে তার কিছু সংশয় রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতের জন্য কিছু ত্যাগ স্বীকার করতে হলে আমি সেটিকে সমর্থন করব।’

তবে জোলিন লয়েডের মতো অনেক ভোটারের মতে, এই যুদ্ধ বন্ধ করা প্রয়োজন।

এসআর

প্যারাগুয়েতে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ, পদত্যাগপত্র নিচ্ছে না পার্লামেন্ট

পিট হেগসেথ ও মার্কো রুবিওর পদত্যাগের গুঞ্জন নাকচ

বিল ক্লিনটনের প্রশংসা পাওয়ার ১৯ বছর পর রেকর্ড গড়লেন সেই তরুণ

ট্রাম্পের ছায়ায় থেকেও নিজস্ব রাজনৈতিক বলয় তৈরি করছেন ভ্যান্স

ওভাল অফিসকে জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ ঘোষণা করলেন ট্রাম্প

ইসলামবিদ্বেষের রাজনীতিকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন আল-সাইয়েদ

ইরানে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে নিরাপত্তা দলের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মামদানির সমর্থিত ৩ প্রার্থীর জয়

মার্কিন ইহুদিদের কাছে নেতানিয়াহুর চেয়ে বেশি জনপ্রিয় মামদানি

৫৪৮ বন্দির মৃত্যুদণ্ড বাতিল করলেন ক্যালিফোর্নিয়ায় গভর্নর