হোম > বিশ্ব > আমেরিকা

পেন্টাগনের নিষেধাজ্ঞাকে বেআইনি রায় মার্কিন আদালতের

এএফপি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসন ফেব্রুয়ারিতে যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, তা বেআইনি বলে রায় দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত।

আদালত বলেছে, পেন্টাগনের সমালোচনা করায় প্রকাশ্যে প্রতিষ্ঠানটিকে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার দেওয়া ৫৯ পৃষ্ঠার রায়ে বিচারক রিটা লিন বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তার কথা বলে ফাঁকা যুক্তি দেখিয়ে সরকারি সমালোচকদের শাস্তি বা প্রতিশোধ নেওয়ার অবাধ ক্ষমতা পাওয়া যায় না।’

তিনি মামলায় বিবাদী হিসেবে থাকা ফেডারেল সংস্থাগুলোকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওই আদেশ কার্যকর করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। ওই আদেশে অ্যানথ্রোপিকের তৈরি ‘ক্লড’ এআই মডেল ব্যবহার বন্ধ করতে বলা হয়েছিল।

একই সঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ অ্যানথ্রোপিক-কে ‘সাপ্লাই চেইন ঝুঁকি’ হিসেবে যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেটিও বাতিল করেছেন বিচারক। এর আগে এই ধরনের মর্যাদা মূলত বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হতো।

মার্চে বিচারকের দেওয়া সাময়িক নিষেধাজ্ঞাকে স্থায়ী করেছে বৃহস্পতিবারের এই রায় এবং তা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ রয়েছে। তবে, মার্কিন সরকার চাইলে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে।

অ্যানথ্রোপিকের একজন মুখপাত্র বৃহস্পতিবার বলেন, ‘এই সাপ্লাই চেইন ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করার সিদ্ধান্ত বেআইনি ছিল, আদালতের এমন রায়কে আমরা স্বাগত জানাই।’

তিনি বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এআইকে কাজে লাগাতে সরকারের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করার ওপরই আমরা মনোযোগ রাখছি, যাতে সব আমেরিকান এই প্রযুক্তি থেকে উপকৃত হতে পারেন।’

অ্যানথ্রোপিক মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ‘ক্লড’ ব্যবহার করে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় প্রাণঘাতী অস্ত্র পরিচালনা কিংবা আমেরিকান নাগরিকদের ব্যাপক নজরদারির অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিরোধের সূত্রপাত হয়।

এ সিদ্ধান্তের পর প্রতিষ্ঠানটির ওপর ক্ষুব্ধ হন ট্রাম্প। ফেব্রুয়ারিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অ্যানথ্রোপিক-কে ‘চরম বামপন্থী এবং ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ বলে আখ্যা দেন।

বৃহস্পতিবারের রায়ে বিচারক বলেন, অ্যানথ্রোপিকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য ছিল— কোনো প্রকৃত নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা করা নয়। বরং সরকারের সমালোচনা করায় প্রতিষ্ঠানটির 'ঔদ্ধত্যের' জন্য তাকে দৃষ্টান্তমূলকভাবে শাস্তি দেওয়ার ইচ্ছা থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

মার্কিন সামরিক বাহিনী বিভিন্ন গোপনীয় ও স্পর্শকাতর ব্যবস্থায় ক্লড ব্যবহার করছিল। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার মার্কিন অভিযানের সময়ও ক্লড ব্যবহার করা হয়েছিল।

মার্চে আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যানথ্রোপিককে ‘সাপ্লাই চেইন ঝুঁকি’ হিসেবে চিহ্নিত করার পর প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সামরিক চুক্তিগুলো বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে পেন্টাগনের অন্যান্য ঠিকাদারকেও অ্যানথ্রোপিকের প্রযুক্তি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

তবে আদালতের এই রায় অ্যানথ্রোপিকের জন্য পুরোপুরি বিজয় নয়।

একই দিনে পেন্টাগন আরেকটি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত বিধিমালার ভিত্তিতে দেওয়া ওই নিষেধাজ্ঞা এখনো কার্যকর রয়েছে। ওয়াশিংটনের আরেকটি আদালতে এ বিষয়ে মামলাটি চলছে এবং এপ্রিল মাসে ওই আদালতের বিচারক নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

এ ছাড়া অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) দারিও আমোদেই এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি, বিশেষ করে কর্মসংস্থানের ওপর এর প্রভাব নিয়ে বারবার সতর্ক করায় হোয়াইট হাউসও তার প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করেছে।

একটি প্রোগ্রামিং ত্রুটিতে স্থবির হয়ে পড়েছে বহু দেশের গুরুত্বপূর্ণ অনলাইন সেবা

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের ক্ষমতার সমীকরণ বদলে দিতে পারে যে ১০ আসন

শিগগিরই কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে, কেন বললেন ট্রাম্প

ডেমোক্র্যাটদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিলেন ইলন মাস্ক

ফের চালু হচ্ছে ডিভি লটারি, আবেদন করতে পারবেন বাংলাদেশিরা?

নেতানিয়াহুকে সমর্থন: ট্রাম্পের বিপরীত পথে ভ্যান্স

৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র

এল-সাইদের ধর্মবিশ্বাসে আক্রমণ রিপাবলিকানদের, উত্তপ্ত টাউন হল

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের প্রত্যাশা কি অতিরিক্ত বেশি

যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে ভর্তিতে জাতিগত বৈষম্যের মামলা শুনবে সুপ্রিম কোর্ট