ইরানের দেওয়া সাত দিনের প্রস্তাব গ্রহণ না করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হয়তো মনে করছেন সময় তার অনুকূলে, আর তাই সময়ক্ষেপণের মাধ্যমে তেহরানের ওপর আরো চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছেন। তবে এতে ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির জ্যেষ্ঠ ফেলো নেগার মোর্তাজাবি আলজাজিরাকে বলেন, ট্রাম্প ‘মনে হচ্ছে বাজি ধরেছেন যে সময় তার পক্ষেই আছে’। তার ধারণা, ইরানের প্রস্তাব গ্রহণ করলে—যার আওতায় মার্কিন কিছু ছাড়ের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে—তা হয়তো ‘অকাল সিদ্ধান্ত’ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
মোর্তাজাবির মতে, ট্রাম্প আশা করছেন নিষেধাজ্ঞা ও মার্কিন নৌ অবরোধের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত তেহরানকে আরো বড় ধরনের ছাড় দিতে বাধ্য করা যাবে। তবে এই কৌশলেই ঝুঁকি রয়েছে।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক চাপের ফলে ইরানের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে, কিন্তু তাতে দেশটির রাজনৈতিক আত্মসমর্পণ ঘটবে না কিংবা তেহরান যেসব বিষয়কে তাদের ‘মৌলিক রেড লাইন’ বা অলঙ্ঘনীয় নীতি বলে মনে করে, সেগুলোর কোনো পরিবর্তন হবে না। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরানের হাতে এখনও গুরুত্বপূর্ণ চাপ প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে। প্রণালি পুনরায় চালুর পথও ইরানের প্রত্যাখ্যাত প্রস্তাবে রাখা হয়েছিল।
মোর্তাজাবি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়া ট্রাম্পের ওপর দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে।
তার মতে, তেহরান যদি মনে করে ওয়াশিংটন আরো ব্যাপক ছাড় ছাড়া কোনো সমঝোতা মেনে নেবে না, তাহলে ‘ইরানের নেতারা আরেকটি বিকল্প সমঝোতার পথ দেওয়ার তেমন কোনো কারণ দেখবেন না’। এতে উভয় পক্ষের অবস্থান আরও কঠোর হতে পারে এবং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
এমএমআর