নিউইয়র্কে শুরু হওয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন চলবে ২২ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সাধারণ বিতর্কে জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যদেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেবেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এবারের অধিবেশনে ইরান, গাজা, ইউক্রেন, সুদান, কঙ্গো ও মিয়ানমারের সংঘাত বিশেষ গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়েও আলোচনা হবে। যুদ্ধ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ নিয়ে আলোচনা হবে।
এদিকে জাতিসংঘের নিজস্ব কার্যকারিতা ও ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা হবে। নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের বিষয়ে ১৯৩ সদস্যরাষ্ট্র একটি বিস্তৃত সংস্কার প্যাকেজে সম্মত হলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো নানা প্রশ্ন রয়েছে। দ্বিতীয় মেয়াদ শেষে আগামী ৩১ ডিসেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ শেষ হচ্ছে; তার উত্তরসূরি নিয়েও কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এবার জাতিসংঘের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রযুক্তিটির দ্রুত অগ্রগতির বিপরীতে বৈশ্বিক পর্যায়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এখনও সীমিত। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ বুধবার এআই নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও করবে। একই সময়ে এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে প্রযুক্তি খাতের কয়েকজন নেতার সতর্কতার বিপরীতে ট্রাম্প এ ধরনের উদ্বেগকে ‘হোক্স’ হিসেবে অভিহিত করে যুক্তরাষ্ট্রের এআই উন্নয়ন অব্যাহত রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
জলবায়ু সংকটও এবারের কর্মসূচির অন্যতম প্রধান বিষয়। জাতিসংঘ ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জলবায়ু সম্মেলনের আয়োজন করেছে। এতে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ, ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্র এবং প্রধান জ্বালানি উৎপাদক ও ভোক্তা দেশগুলোর নেতারা জলবায়ু সহযোগিতা, জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু ন্যায়বিচার নিয়ে আলোচনা করবেন।
জাতিসংঘের আর্থিক সংকটও অধিবেশনের পটভূমিতে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বকেয়া চাঁদার একটি অংশ পরিশোধের ফলে চলতি বছর সাধারণ পরিষদে দেশটির ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কা আপাতত এড়ানো গেছে। তবে অর্থসংকটের কারণে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে কাটছাঁটের চাপ অব্যাহত রয়েছে।
এবারের অধিবেশনে তাই একদিকে যুদ্ধ ও নিরাপত্তা সংকট, অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তন, এআই, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও জাতিসংঘের সংস্কার—সবগুলো বিষয় একই সঙ্গে আলোচনার কেন্দ্রে থাকছে। জাতিসংঘের মহাসচিব গুতেরেসের ভাষায়, বর্তমান অনিশ্চয়তার সময়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজন আরও বেড়েছে।
মঙ্গলবার সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। বুধবার বক্তব্য দেওয়ার কথা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন। ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।
তবে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বনেতা এবারের অধিবেশনে সরাসরি উপস্থিত থাকছেন না। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিউইয়র্কের পরিবর্তে ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেবেন এবং তার পরিবর্তে চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জাতিসংঘে প্রতিনিধিত্ব করবেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও আসছেন না। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সফর বাতিল করেছেন।
সূত্র: এপি নিউজ ও রয়টার্স